আপডেট
০৪-০৬-২০১৫, ০৯:৪৭

‘বাজেট বাস্তবায়ন ও অর্থায়নই হবে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ’

bgt-challenge-2
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছরই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেটের আকার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার যে লক্ষ্য, তা বাস্তবায়নের জন্য এই আকার বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়ন ও এর অর্থায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি সংসদ অধিবেশনেই আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেব বা বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে উল্লেখ থাকবে এক বছরে কত টাকা কোন খাত থেকে জোগাড় করা হবে এবং খরচ হবে।

প্রতি বাজেটেই সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে থাকে উন্নয়ন ব্যয়। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এবারের বাজেটে এডিপির আকারও বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এডিপি বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক দুর্বলতা বিবেচনায় নিলে এবারের বাজেটেও তা বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।

বিআইডিএস-এর গবেষক ড. আবুল বাশার বলেন, 'উন্নয়ন বাজেটে যেহেতু এটার সাথে ইনভেস্টমেন্ট, এটার সাথে নতুন কিছু করার ব্যাপার জড়িত আছে, আমাদের কারিগরি দক্ষতার অভাবে হয় না, আমাদের প্রশাসনিক দক্ষতার অভাবে হয় না, আমরা যে টাইমলাইন সেট করি তা যথাযথভাবে ফলো করতে পারি না। এই বছরও যদি আমরা এই জায়গাগুলো থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারি তাহলে এগুলো এবছর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে।'

সিপিডি'র অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'এবার একটু আশার কথা আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, প্রকল্প সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও অননুমোদিত প্রোজেক্টের সংখ্যা গতবারের চেয়ে আরও বেড়েছে। এই ধরণের প্রকল্পগুলো অধিকাংশ সময়েই দেখা যায় যে পর্যাপ্তভাবে মূল্যায়ন না করে সংশোধিত বাজেটের সময় প্রচুর প্রোজেক্ট নেয়া হয়। যেগুলো মূলত রাজনৈতিকভাবে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবান্বিত থাকে। এই সমস্ত প্রকল্পগুলো কিভাবে কমিয়ে আনা যায় এবং মূল মূল প্রকল্প কিভাবে বাস্তবায়ন করে শেষ করা যায় সেটি গুরুত্বপূর্ণ।'

এদিকে, স্থানীয় সংস্থানসহ বাজেটের বড় একটি অংশ আসে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য থেকে। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকক্ষেত্রে অর্থছাড়ে বিলম্ব এমনকি ফেরত যাওয়ার নজিরও রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশাল বাজেটে অর্থ জোগাড়ের খাতগুলো চিহ্নিত করা এবং তা সঠিকভাবে আদায়ই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ড. গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, 'আগামী অর্থবছরের এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থের সংস্থানটিই হবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।'

ড. আবুল বাশার বলেন, 'ট্যাক্স-রেভিনিউ কিভাবে বাড়ানো যায় এবং সেখানে এনবিআরের একটি বড় ভূমিকা আছে। এনবিআরকে আরও সক্ষম এবং প্রো-অ্যাক্টিভ হতে হবে।'

এর পাশাপাশি, বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি মালিকানাধীন ব্যবসা বাণিজ্য বা শিল্প কারখানায় লোকসানের পরিমাণ কমিয়ে আনার ব্যাপারেও জোর দেয়ার তাগিদ তাদের।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে