হন্ডুরাসে মাদক ব্যবসার ফাঁদে শিশু-কিশোররা

Update: 2015-01-13 17:49:56, Published: 2015-01-13 17:49:56
হন্ডুরাসে মাদক ব্যবসার ফাঁদে শিশু-কিশোররা
মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস। দারিদ্র্যের পাশাপাশি যুগ যুগ ধরে দেশটির প্রধান সমস্যা মাদক ব্যবসা। তবে সবচেয়ে নির্মম ও ভয়াবহ হলো এই অবৈধ ব্যবসায় জড়ানো হচ্ছে শিশু-কিশোরদের। যে শিশু একবার এই জালে জড়িয়েছে, চাইলেও বেরিয়ে আসতে পারেনি। পালানোর চেষ্টা করলেই মেরে ফেলা হয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে এমনই সব ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

পাহাড় আর সবুজের ছায়াঘেরা সুন্দর এক দেশ হন্ডুরাস। তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ছুঁতে পারেনি এখানকার নির্মম বাস্তবতাকে। আজও দেশটির ৬৭ শতাংশ মানুষ বসবাস করে দারিদ্র্য সীমার নীচে। এ কারণে সবচেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠে শিশু কিশোররা। আর এই দারিদ্রকে পুঁজি করে দেশটিতে মাদক ব্যবসা আর সহিংসতার ঘটনা বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি, কাসা এলিয়ানজা নামে দেশটির একটি বেসরকারি সংস্থা এ বিষয়ক একটি জরিপ চালায়। তাতে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এই মাদক ব্যবসাকে ঘিরে। তবে আতঙ্কের বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে মাদক চক্রগুলো তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এই শিশু কিশোরদের টার্গেট করে। বাধ্য করে মাদক সেবনেও।

সমাজকর্মী দাসিল দে সিড বলেন, শিশুরা এসব ব্যবসা করবে না জানালে তাদের আর তাদের পরিবারকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দেয়া হয়। গুলি করে রাস্তায় ফেলে রাখতেও তারা কার্পণ্য করে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ ধরণের একের পর এক ঘটনার ফলে শিশু-কিশোররা মারাত্মক মানসিক চোট পায়। যার ফল ভোগ করতে হয় সারা জীবন। অথচ তাদের সেবা দিতে দেশটিতে নেই কোন মানসিক ইন্সটিটিউট। সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুর জন্য কোন প্রকল্পও নেই।

এসব কারণে দেশত্যাগী মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বছরে ৩০ হাজার শিশু অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে বলেও জরিপে বেরিয়ে আসে। অনেকে পুরো পরিবার মিলেই অবৈধভাবে আশ্রয় নেয় অন্য দেশে। এদের মধ্যে অকালে প্রাণ হারাতে হয় অনেককেই।

এনজিও কর্মকর্তা জুয়ান কালডেলরন বলেন, বিদেশে পাড়ি দেয়ার হার কমাতে এখানে কার্যকর কোন কর্মসূচির ব্যবস্থা নেই। এই সমস্যা দূর করতে হলে প্রতিটি শিশুকে এবং প্রতিটি ঘটনাকে বিশ্লেষণ করা দরকার।

১২ বছরের কিশোর লেভি এক সময় চুরির মতো ছোটখাটো অপরাধে জড়িত ছিলো। সেই থেকে সে মাদক চক্রের নজরে আসে।

সাবেক মাদক ব্যবসায়ী লেভি বলেন, শুরুতে তারা আমাকে বিভিন্ন জিনিষ চুরি করতে বলতো। এরপর মাদক পাচার করাতো। একদিন বলল আমাকে খুন করতে হবে। আমি বললাম, এটা পারবো না।

এক মাদক ব্যবসায়ীর মা বলেন, আমি যখন জানতে পারি আমার ছেলে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে গেছে। আমার পুরো পৃথিবীটা তছনছ হয়ে যায়। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওর একটাই কথা, মা আমি বেরিয়ে আসতে পারব না, ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।

লেভি ভাগ্যবান বলেই হয়তো সেই চক্র থেকে পালিয়ে দূরের এই শহরে আশ্রয় নিতে পেরেছে। কিন্তু আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায় সেইসব দুঃসহ স্মৃতি। তবে এই দুরবস্থার পেছনে সে তার পারিবারিক ভাঙন ও অসঙ্গতিকেই দায়ী করে।

সাবেক মাদক ব্যবসায়ী লেভি বলেন, আমার মাদকসেবী বাবা, আমার মাকে ভীষণ নির্যাতন করতো। আমাকেও একদিন খুন করার চেষ্টা করেছিলো। কখনও কোন খোঁজ নেয়নি। আমি তাকে ঘৃণা করি।

সুস্থ পারিবারিক শিক্ষা, শিশু-কিশোরদের মানসিক অবস্থা বুঝে তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করা এবং সেইসঙ্গে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ--এই সমস্যার অনেকটা সমাধান করতে পারে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

Update: 2015-01-13 17:49:56, Published: 2015-01-13 17:49:56

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ


জনপ্রিয় ট্যাগ

সংবাদ অনুসন্ধান

সরাসরি সম্প্রচার

সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv