তুষার আবদুল্লাহ
আপডেট
০৩-০১-২০১৫, ১২:০২

স্বদেশী টিভি’র পর্দায় চোখ রাখুন

স্বদেশী টিভি’র পর্দায় চোখ রাখুন
নিউজরুমে দেশীয় সবকয়টি চ্যানেল ২৪ ঘণ্টা অন রয়েছে। কাজের ফাঁকে প্রথমত ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল গুলোই চোখ টানে বেশি। কিন্তু গত দিন পনের ধরে চোখ নিজে থেকেই অনুষ্ঠান প্রধান চ্যানেল গুলোর দিকে চলে যাচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে সব চ্যানেলই তিন থেকে সাতদিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন রেখেছে। সিনেমা, টেলিফিল্ম, নাটক, লাইভ মিউজিক শো, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান সংগীতা অনুষ্ঠান, তারকা আড্ডাতো থাকছেনই, যোগ হচ্ছে ঈদের বিশেষ ধারাবাহিক এবং বিরতিহীন নাটক। এছাড়া তারকা নির্ভর কিছু ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানও আছে কোন কোন চ্যানেলের ফর্দে। অনুষ্ঠান গুলোর প্রমো বা প্রোগ্রাম প্রমোশনাল দেখে কোন কোনটি দেখার আগ্রহও তৈরি হয়েছে। টেলিভিশনে প্রমো দেবার পাশাপাশি দুই একটি টেলিভিশন তাদের বিশেষ অনুষ্ঠান নিয়ে পত্রিকা এবং বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে।
ঈদের ছুটিতে দর্শকদের বিনোদিত করতে চ্যানেলগুলো’র এই আয়োজন দেখে, তাদের প্রতি আমার করুণা তৈরি হয়েছে। করুণা নিজের প্রতিও। কারণ সংবাদ চ্যানেল হলেও সময় সংবাদও তথ্য বিনোদন ভিত্তিক কিছু অনুষ্ঠান তৈরি করেছে। চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, এনটিভি, বাংলাভিশনসহ সকল বিনোদন প্রধান চ্যানেলের অনুষ্ঠান সূচি দেখার পর আমি কয়েকটি অনুষ্ঠানের প্রচার সময়ের সংগে পাশের দেশ ভারতের স্টার প্লাস, স্টার জলসা, জিবাংলা, স্টার মুভি’র অনুষ্ঠান সূচি মিলিয়ে নিলাম। মেলাতে গিয়ে দেখি আমাদের দর্শকদের সিংহ ভাগ যে ভারতীয় যে ধারাবাহিক বা মিউজিক প্রোগ্রাম দেখে থাকেন নিয়মিত, সেই সময়টিতে আমাদের চ্যানেল গুলোর অনেক জমজমাট ঈদ অনুষ্ঠান রয়েছে। অর্থাৎ নিয়মিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করে তৈরি অনুষ্ঠানগুলো গড়পড়তা ভারতীয় অনুষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ছে। দর্শকদের স্বাভাবিক যে অভ্যাস তা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ধারাবাহিক যে কোন অনুষ্ঠানই দর্শকের তৃষ্ণা ধরে রাখে। ফলে সে পরের পর্বটি দেখতে উদগ্রীব থাকে। ফলে আমার উৎকণ্ঠার দিকটি হলো ভারতীয় চ্যানেলের ধারাবাহিক বাদ দিয়ে আমাদের দেশের ঈদ অনুষ্ঠানের দিকে দর্শকরা মুখ ফেরাবেন কিনা?

কেবল গত দুটি ঈদের অভিজ্ঞতা যদি বলি। তার মূল কথা হলো ঈদ উপলক্ষে এতো নাটক, টেলিফিল্ম তৈরি হচ্ছে যে তার সব কয়টি’র খবর রাখা বা দেখা দর্শকদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ঠিকই। কিন্তু পত্রিকা এবং চ্যানেল গুলো’র বিজ্ঞাপন থেকে দর্শকরা কিন্তু আগে থেকেই বেছে রাখতে পারেন কোন অনুষ্ঠানটি ঈদের বেড়ানো-আড্ডা’র ফাঁকে দেখবেন। তবে আমি ঈদ আয়োজনের দিন গুলোতে বন্ধু ও পরিজনদের কাছে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেছি তাদের একটি বড় অংশ সেই ভারতীয় চ্যানেলেই বুঁদ হয়ে আছে। দুই-একটি বাড়িতে নিজে হাজির হয়েও তার চাক্ষুষ প্রমাণ দেখেছি। জানতে চেয়েছি দেশের ঈদ অনুষ্ঠান কেনো দেখছেন তারা, ঝটপট উত্তরও তৈরি তাদের- ‘বোরিং নতুন কিছু নাই। পাল্টা আমি জানতে চেয়েছি-দেখার চেষ্টা করেছেন। আর ভারতীয় চ্যানেল গুলো’র অনুষ্ঠান দেখে ‘বোর’ লাগেনা? উত্তর পাইনি।

মজার বিষয় হলো-ভারতীয় এসব চ্যানেলে দেখা পোশাকের আদলে তৈরি ঈদ পোশাক পড়ে তারা ঐ চ্যানেলের অনুষ্ঠানে বুঁদ হয়ে থাকছে। বেচারা আমাদের নির্মাতা, অভিনেতাদের পরিশ্রম এবং চ্যানেলগুলো’র বিনিয়োগ যাচ্ছে জলে। এবারের ঈদের অনুষ্ঠান তৈরি করেছেন বা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন এমন কলাকুশলীদের, কাউকে কাউকে দেখছি গত সপ্তাহ খানেক ধরে ক্ষুদ্র বার্তা পাঠিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েও অনুরোধ করছেন, অনুষ্ঠান দেখতে। একজনতো প্রায় সরাসরি লিখেই পাঠিয়েছেন- ‘ভারতীয় চ্যানেলের অনুষ্ঠানের চেয়ে আমার অনুষ্ঠান খারাপ হয়নি খোদার কসম। এই আকুলতা এবং অসহায়ত্বের জন্য ভারতীয় চ্যানেল মনস্ক দর্শকরাই দায়ী।

তারা যদি ভারতীয় অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক না হয়ে আমাদের অনুষ্ঠানের দিকে একটু নজর দেন, তাহলে আমরা অনুষ্ঠান তৈরিতে আরো উৎসাহ যেমন পাবো, তেমনি বিনিয়োগ বাড়ায় বাড়বে অনুষ্ঠানের মান। তাই যে মূহুর্তে ঈদের চাঁদের জন্য অপেক্ষা করছি, ঠিক তখনই প্রিয় দর্শক আপনাদের কাছে অনুরোধ- এবারের ঈদে স্বদেশী টিভি পর্দায় চোখ রাখুন। এটিই হোক এবারের ঈদে আপনার পরম ত্যাগ!




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে