আপডেট
১৮-০১-২০১৫, ১৫:৪৮
তথ্য প্রযুক্তির সময়

সাইবার হামলা: আক্রান্ত উন্নত দেশ, প্রতিরোধে অভিনব উদ্যোগ

সাইবার হামলা: আক্রান্ত উন্নত দেশ, প্রতিরোধে অভিনব উদ্যোগ
সাইবার হামলা প্রতিরোধে নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেও এ থেকে রেহাই মিলছে না যুক্তরাষ্ট্রের। সবশেষ নিজেদের মধ্যে সাইবার হামলার মহড়া চালিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যই নয়, সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়াসহ অন্যান্য উন্নত দেশও। এ-নিয়ে মাঝে মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং প্রতিশোধমূলক ঘটনাও যে ঘটে না তা নয়।

অবৈধভাবে অন্যের কম্পিউটারে প্রবেশ করে তথ্য চুরি করা, মুছে ফেলা বা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে কোনো পদ্ধতি অকার্যকর করে দেয়াকে সাধারণত হ্যাকিং বলা হয়। পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিয়ে মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়ার পাশাপাশি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হ্যাকাররা হাতিয়ে নিতে পারে অর্থ, বন্ধ করে দিতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম।

চলতি মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের টুইটার ও ইউটিউব অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে আইএস সমর্থক হ্যাকাররা। এর আগে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সনি পিকচার্সে সাইবার হামলা চালিয়ে একশো টেরাবাইট ডাটা সরিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ প্রকাশ না করলেও আলোচিত এ হ্যাকিংয়ের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি এর সমুচিত জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারির পাশাপাশি পিয়ংইয়ংয়ের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রশাসনের সন্দেহের সত্যতা না মিললেও উত্তর কোরিয়া সরকারের সাবেক প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জাং সি-উল জানান, শত্রু রাষ্ট্রে সাইবার হামলা চালায় উত্তর কোরিয়ার ব্যুরো ওয়ান টুয়েন্টি ওয়ান। তবে শুধু উত্তর কোরিয়া নয়, বিভিন্ন সময় হ্যাকিংয়ের জন্য চীন ও রাশিয়ার দিকেও সন্দেহের আঙ্গুল তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোনে আড়ি পাতাও এক ধরনের হ্যাকিং। আর এই কাজটি হর-হামেশাই করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ-'র সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন তার বহু প্রমাণ বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন।


মার্কিন গোপন নজরদারীর তথ্য ফাঁসকারী এডওয়ার্ড স্নোডেন বলেন, 'এনএসএ'র যেকোনো নিরাপত্তা বিশ্লেষক যেকোনো যে সময় যে কারও যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। আমার ডেস্ক থেকে আমি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিচারক, এমনকি প্রেসিডেন্টের কথোপকথনও ট্যাপ করতে পারতাম।'

মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, ২০১১ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে স্টুক্সনেট ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছিলো ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। একই বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র ২৩১টি সাইবার হামলা চালায়, যার ৭৫ শতাংশই ছিল রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে। সাইবার হামলা ঠেকানো ও অন্য দেশে একই ধরনের হামলা চালানোর জন্য ২০১৩ সালের বাজেটের অদৃশ্য খাতে ৫ হাজার ২৬০ কোটি ডলার বরাদ্দ করে যুক্তরাষ্ট্র।

সামরিক হামলা আর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সাইবার হামলা ।

ক্যাস্পারস্কি সফটওয়্যারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউজেন ক্যাস্পারস্কি বলেন, 'আমার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে প্রথাগত যুদ্ধের আর কোন প্রয়োজনই হবে না, সাইবার হামলার সাহায্যেই এক দেশ আরেক দেশকে কব্জা করতে বা নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারবে।'

সম্প্রতি রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও গোয়েন্দা বিভাগের ওয়েবসাইট হ্যাক করে ইউক্রেনীয় হ্যাকার গ্রুপ ইউক্রেনীয় সাইবার ট্রুপস। ইউক্রেনেরও অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে রুশ হ্যাকাররা।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে