মিজানুর রহমান খবির
আপডেট
০৪-০৫-২০১৫, ১৬:৪৪

সহজ্বলনের শেষ কোথায়?

asas
ধূলি-ধোঁয়া-আর বিষ বাষ্পের রাজধানীতে যারা জীবনের প্রয়োজনে দিনে রাতে শ্বাস নিতে বাধ্য; তাদের জন্য শ্বাস নেয়া স্বস্তির নাকি শাস্তির?
চমকে ওঠার মত প্রশ্নময় মন্তব্য।
অনেকেই বলবেন বোকার মত প্রশ্ন কেন করছি?

চলুন কিছু সময় বোকা থেকে বুঝে নেই, কি ধোঁকা চলছে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে।

ঢাকার বাতাসে কতরকম ক্ষতিকর উপাদান আছে তার পরিসংখ্যান টেনে লেখা ভারি করার কী আর দরকার?

কেননা, বসবাস অযোগ্য নগরী হিসেবে এ শহরের পরিচিতিতো সারাবিশ্বে।

দুষ্ট জনেরা বলেন- অসম্ভব ধরনের এ শহরটিতে কেবল মানুষের মত সহ্যশীল প্রাণীর পক্ষেই জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব। নবজাতক থেকে জীবনধারী বুড়ো-সব নাগরিকের শ্বাসযন্ত্রের বিভীষিকার নাম-‘ঢাকার বাতাস’।


বাতাস নিয়ে এত হা-হুতাশের মধ্যেও সকালে নাকি কিছুটা নির্মল হাওয়া পাওয়া যায় ঢাকার পরিবেশে!!

হাওয়াটা শাব্দিক অর্থে নির্মল কী না তা একটু রঙ্গ করে বলবো?

‘নির’ উপসর্গটি ব্যাকরণে সম্ভবত উৎকৃষ্ট অর্থে ব্যবহৃত। সেই হিসেবে এই নির্মলের অর্থ হয়তো-উৎকৃষ্টমলময়!!

কমপক্ষে ২য় বারের মত অবাক হলেন?

যারা একটু কম জনবসতিতে বসবাস করার সুযোগ পাচ্ছেন তাদের কাছে সকালের হাওয়াটা কিছুটা স্বস্তির হতে পারে। আপনার এলাকার??
গাড়িগুলো যেমন বেলা করে ওঠে তেমনি ধোঁয়া ছাড়েও বেলা করে, ওখানকার রাস্তাগুলোও হতব্যস্ত বলে ধূলো-বালি ওড়ে না অতসকালে।
অথবা বাউন্ডারি ঘেরা আপনার বাড়ি কিংবা কাচের ঘেরাটোপের আরামখানায় হানা দিতে পারে না ‘নির্মল’ হাওয়া।

তবে, বেশিরভাগ ঢাকাই শেষ রাত থেকে পরদিন মধ্যরাত পর্যন্ত- সনের পর সন ধরে কেবল দূষণ দূষণ আর দূষণ। কনকনে শীত অথবা টনটনে গ্রীষ্ম-সবসময়ই ফুঁসফুঁসে জমা হচ্ছে বায়ু বিষ।

কিন্তু যারা শেষ রাতে বাইরে বের হন, নিশ্চয়ই দেখবেন পাড়ায় পাড়ায়-বড় রাস্তায় নগরভবনের ঝাড়ুদার। ধোঁয়ার কুয়াশা উড়িয়ে মাটির ধুলো মিশিয়ে দিচ্ছেন ভোরের হাওয়ায়। অতসকালে একটু নির্মল বাতাসের লোভে বাইরে আসা আপনি ধূলিময় সংবর্ধনা পেলেন।
ফুটপাত বা ফুটওভার ব্রিজ ধরে হাঁটছেন?

ভাসমান মানবদের সেরে রাখা প্রাকৃতিক কর্মে ভোরের হাওয়া আপনার অপমানিত। আপনারও তা অস্বস্তির কারণ!!

এছাড়া, পাশ দিয়ে প্রায়ই দেখবেন সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি, উদারচিত্তে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে আর আর আসছে। সঙ্গে অসুস্থ গাড়িটির বিষাক্ত ধোঁয়া। 
ভোরের ঢাকার আপাত: বিশুদ্ধতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ শুনবেন এবার?

এটিও সবসময়ই দেখা, হয়তো আপনিও এ মঞ্চের নিয়মিত অজেয় অভিনেতা।

রাজধানীবাসীর অনেকেরই ৭টা কেন্দ্রিক রাস্তায় নামা। গার্মেন্টস কর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, দূরপাল্লা বা মাঝারিপাল্লার চাকুরীজীবীদের স্রোত তখন রাস্তা জুড়ে। সময়কে সঙ্গে নিয়ে যথাসময়কে সামনে রেখে সবারই চলন গন্তব্যের দিকে।

পরিবেশের গাম্ভীর্য বজায় থাকা অমন পরিবেশে হাজারো পথচারীর জন্য অভিশাপ দণ্ড নিয়ে হাজির হন আপনারই মত কিছু পথচারী।

হাতে আগুন নিয়ে পাপদণ্ড পোড়াতে পোড়াতে ভদ্রলোক আয়েশী ভঙ্গিতে চলছেন। তার অবদানে অত সকালে আপনার মাথা ঘোরে, দম নিতে ভয় হয়, অস্বস্তি লাগে বুক ভরে হাওয়া নিতে। মেজাজ বিগড়ে যায় আপনার।

কিন্তু বিরক্ত হবার সময় কই?

পাশকাটিয়ে যেতে যেতে ধূম্র নির্যাতন যখন বন্ধ হয়ই না, তখন হাল ছেড়ে দেন আপনি। কতজনকে টপকে আগে যাওয়া যায়??

এতক্ষণে বলতে ইচ্ছে হল- প্রকাশ্যে ধূমপানের কথা নিয়ে কথা হচ্ছিল।

শুধু সকালটাই নয়, এমন বেআইনি-ঘৃণ্য-অসহিষ্ণু কাজের শিকার আপনি কখন নন?

জন থেকে যান, রাজপথ থেকে বেডরুম, পার্ক থেকে কর্মস্থল, আড্ডা থেকে উপাসনালয়- আপনি নয়তো পার্শ্ববর্তী মানুষটি জ্বলা এবং জ্বালানো থেকে মুক্তি দিচ্ছেন না কেউ কাউকে।

আইন-জরিমানা-ধর্মীয় বিধান সব কিছুকে বিশেষ আঙ্গুল দেখিয়ে আমরা স্বস্তি পেতে দেখছি কিছু হতবিবেককে। কেবল স্বার্থের কারণে ধোঁয়ার জালে তারা জড়াচ্ছে-শান্ত ভোর, ক্লান্ত দুপুর, শ্রান্ত রাত। নীতিকথা শোনানো এসব মানুষ নিজেরা শোনে না-নিজেরা বোঝে না!!

কী তারা করছে কী তার ফলাফল।

শুধু ঢাকাই নয়, মানববসতির সব জায়গাই প্রকাশ্যে ধূমপানের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত।

কীভাবে এটি বন্ধ হবে তা বোধ হয় অলৌকিক কোন সূত্র দিয়ে আবদ্ধ। ধূম্র কাঠির দামবাড়িয়ে সরকারের ট্যাক্স বাড়ে, উৎপাদন বন্ধ করলে কর্মী মরে। প্রত্যক্ষরা নিজেরা মরে, পরোক্ষরা অযথা মরে।রসিকজনেরা এদের বলেন-পরকীয় ধূমপায়ী। আর কতকাল বাতাস দূষিত করতে প্রকাশ্যে জ্বলবে তামাক পাতা?

এ সহজ্বলনের শেষ কোথায়?

আসুন নিজে নিজে নিজের দায়িত্বে জ্বালানো বন্ধ করি। আমার ফুঁসফুঁসে বিষ ঢোকানোর অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে- একথার জবাব কি তৈরি আছে??




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে