SOMOYNEWS.TV

টিভি দেখতে ক্লিক করুন

বেশি বুঝাতে গিয়ে যেন বেসামাল পরিস্থিতি না হয়!

Update: 2015-09-15 11:11:08, Published: 2015-09-15 11:11:08
edu
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মেধাবী। ওরা মোটেও বোকা নয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনসহ বিভিন্ন মহলের অবহেলার কারণে ওরা অনেকটা বোকা সেজে থাকে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে মেধার খনি। তাদের মূল্যায়নের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ কোনদিনও দায়িত্ব নেয়নি, নিতে চায়নি। আমরা হয়তো তাদেরকে কাজে লাগাতে পারিনি। তবে এটা তো ঠিক যে, সম্প্রতি প্রকাশিত ৩৪তম বিসিএস-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এবার এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীই প্রথম স্থান লাভ করেছেন।

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক খ্যাতিমান অধ্যাপক, উপাচার্য, অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, কবি সাহিত্যিক ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আজ দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতদের হাতে কখনো বোকা আর বোকা থাকে না। এই পণ্ডিতদের হাতেই আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনূর্বর জমিতে ফলছে জ্ঞানের সোনালী ফসল। সুতরাং উচ্চশিক্ষার ওই পাদপীঠের শিক্ষার্থীরা আজ অনেক এগিয়ে। ওদের হাতেও রয়েছে সাফল্যের আলোর মশাল। তাই দেশের সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনারা কি খেয়াল করেছেন, ওদের শ্লোগান সমূহের ধার কেমন তীক্ষ্ণ? তারা চিৎকার করে বলেছে- ভ্যাট দেব না, গুলি কর! রক্তচোষা ভ্যাট প্রত্যাহার কর। শিক্ষা কোন পণ্য নয়, শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার। চলছে লড়াই চলবেই, শিক্ষার্থীরা লড়বেই ইত্যাদি।

সুতরাং বোঝাই যায় ওরা খুব একটা বোকা নয়। ওদেরকে যেনতেন একটি বিবৃতি দিয়ে থামিয়ে রাখা যাবে না। দেশের শ’খানেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজধানী প্রায় অচল হয়ে পড়লেও সরকারের টনক নড়েনি? তবে লক্ষণীয় যে, ওরা সরকারের কারো বিরুদ্ধে বা রাষ্ট্রদ্রোহী কোন শ্লোগান মুখে আনেনি। ভ্যাটের নামে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে কয় টাকাই বা যোগ হত সরকারের ভাণ্ডারে, যেখানে দেশের হাজার কোটি টাকা বিভিন্নভাবে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক, বীমা, শেয়ার বাজারের কোটি কোটি টাকা লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে অজানা গহব্বরে।

হিসাব করে দেখেছেন কি, কি পরিমাণ রাজস্ব ভ্যাট আকারে এ খাত থেকে বছরে আসতে পারে সরকারের কোষাগারে। দেশে ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ৬৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ১৭ টি প্রকৌশল কলেজে সবগুলো পূর্ণোদ্দমে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মোট শিক্ষার্থীর আনুমানিক সংখ্যা হতে পারে যথাক্রমে ৮ লক্ষ ৩০ হাজার ও ৩ লক্ষ ৬০ হাজার (গড়ে ১০ হাজার ও ৭ হাজার করে ধরে)। শিক্ষার্থী পিছু প্রতি সেমিস্টারে তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ৩৫ হাজার ও ৪৫ হাজার টাকা হারে নিলে বছরে আদায়কৃত মোট মূল্য সংযোজন কর দাঁড়ায় ৩শ ছেষট্টি কোটি ৭৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আর কলেজ পর্যায়ে এবং বছরে সে আদায়ের পরিমাণ হবে ৩শ' চৌষট্টি কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। অতএব, বছরে সর্বমোট আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণ হতে পারে ৭শ' বত্রিশ কোটি ১৬ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ। হতে পারে এই  পরিমাণ রাজস্ব দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়ক কিন্তু যেখানে হলমার্কের লুট করা তিন হাজার কোটি টাকা নিয়ে সরকার তেমন উচ্চবাক্য করে না, সেখানে সাতশত বা সাড়ে সাতশত কোটি টাকা আদায় এমন ধনুর্ভাঙ্গা পন কেন। যেখানে এ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে দেশের সার্বিক কল্যাণে তথা একটি শিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে নিশ্চিতভাবে।

যে খাত হতে সরকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সে খাতের উন্নয়নের জন্য কোনদিন কোন পদক্ষেপ রাষ্ট্রযন্ত্র কি নিয়েছে? বলতে পারেন, ইউজিসিকে তো সরকার পুষছে। কিন্তু সে ইউজিসিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রতিনিধি এ যাবৎকাল রাখা হয়নি কেন। ৮৩ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্য যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের প্রতিনিধি না থাকলে কিভাবে সেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে? আসলে এ খাতের উন্নয়নের জন্য কোনদিনও  কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। অথচ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ভ্যাট আরোপ ও আদায়করণ পদ্ধতি সংক্রান্ত নানামুখী বক্তব্য দিয়ে কখনো শিক্ষার্থীদের, কখনো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আবার কখনো সমগ্র দেশবাসীকে করছেন বিব্রত। বেসরকারি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রায় বারো লক্ষ শিক্ষার্থীদের রক্ত রাজপথে ঢেলে দেবার দাবি যেন এক ছেলে খেলা। অর্থমন্ত্রী স্বয়ং উস্কানীমূলকভাবে শিক্ষার্থীদের বলছেন কর্তৃপক্ষের প্রতি নজর রাখতে যাতে তারা টিউশন ফি বাড়াতে না পারে। সংবিধান অনুযায়ী যেখানে দেশের মানুষের ভাল মন্দ দেখভাল করবার দায়িত্ব সরকারের সেখানে দেশের তরুণদের তা দেখবার জন্য নিজেদের উপর দায়িত্বভার বর্তানো কোনো সুস্থ রাষ্ট্রযন্ত্রের কাজ হতে পারে না।

যাহোক, শেষ পর্যন্ত সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির উপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, এটা সুখের কথা। এখন সরকার এক্ষেত্রে বিরাজমান সব অন্যায়, অনিয়ম ও বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ নেবেন এটাই সবার কাম্য।

লেখক: মো. আব্দুল কুদ্দুস
প্রভাষক, বিজনেস স্টাডিজ বিভাগ ও সহকারী প্রক্টর
নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী


Update: 2015-09-15 11:11:08, Published: 2015-09-15 11:11:08

More News
loading...

সর্বশেষ সংবাদ



Contact Address

89, Bir Uttam CR Dutta Road,
Banglamotor, Dhaka 1205, Bangladesh.
Fax: +8802 9670057, Email: info@somoynews.tv
উপরে