আপডেট
১৬-১২-২০১৪, ০৬:৪৩

'বিজয়ের ৪৩ বছর পর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে অনেক ব্যবধান'

'বিজয়ের ৪৩ বছর পর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে অনেক ব্যবধান'
'বিজয়ের ৪৩ বছর পর বাংলাদেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি'। তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবনা ও প্রত্যাশা। কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ? দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের দেশ সম্পর্কে সচেতনতা ও করনীয় ইত্যাদি বিষয়ে সময় নিউজ.টিভির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের আন্তর্জাতিক ইতিহাসের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
সময় নিউজ.টিভি: বিজয়ের ৪৩ বছর পর কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ?

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে কিন্তু প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে। যেভাবে দেশের অগ্রগতি হচ্ছে, সেটি যথার্থ নয়। অনেক সম্ভাবনা ছিলো এবং এখনো আছে। কিন্তু আমি মনে করি এই অগ্রগতি আশানুরূপ ভাবে এগুচ্ছে না, শুধুমাত্র যোগ্য নেতৃত্বের কারণে। একই সঙ্গে দূরদর্শী চিন্তাভাবনা না থাকাও একটি কারণ। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে '৭৫ সালের পর থেকে একটি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের একটি প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে বঞ্চিত হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক সংঘাত। এসব নানা কারণে দেশের একটি প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে অনেক দূরে।

সময় নিউজ.টিভি: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমাদের তরুণদের ভাবনা বর্তমানে কোন অবস্থানে?

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: আমি মনে করি তরুণরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে না, কারণ এখন পর্যন্ত সঠিক ইতিহাস লেখা হয়নি। আমি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক থাকাকালে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিলো কিন্তু পরবর্তীতে সেটি নানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এসব নানা কারণে তরুণরা এই ইতিহাস জানতে পারেনি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা দলগুলো দায় এড়াতে পারে না। তাদের সদিচ্ছা থাকলে ৪৩ বছর পর হয়তো একথা বলতে হতো না। তবুও আমি আশাবাদী, কারণ ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এই তরুণদের মাঝ থেকেই উঠে আসবে।

সময় নিউজ.টিভি: যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায় কতটুকু?


ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজটি করার কথা রাজনৈতিক দলগুলোর কিন্তু তারা সেটি করছে না। তরুণদের দেশের নেতৃত্ব দেয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে না পারলেতো ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হবে। সেইসঙ্গে দেশের অগ্রগতিও স্থবির হয়ে পড়বে। দেশ স্বাধীনের উদ্দেশ্য ছিলো একটি শোষণহীন সমাজ গড়া কিন্তু তরুণ প্রজন্মকে বাদ দিয়ে এটি সম্ভব নয়। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গাটি তরুণদের কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। এজন্য সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো। আর দলগুলোর ভেতরে গণতন্ত্রের চর্চা থাকা জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশর রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকাটাই বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সময় নিউজ.টিভি: এক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের দায়বদ্ধতা কতটুকু?

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: দায়বদ্ধতা থাকতে হবে দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি। আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে আত্মস্বার্থের ব্যাপারটি বেশি কাজ করে। এটিকে আমি একটি সামাজিক সঙ্কট বলবো। এই সামাজিক সঙ্কট দূর করতে নিজের দেশকে জানাটা জরুরি। দেশপ্রেম থাকতে হবে। কিন্তু দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটাই আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে অ-সংজ্ঞায়িত। দেশকে জানা এবং দেশের প্রতি অবদান রাখাটাই দেশপ্রেম। এটি তরুণদের বুঝতে হবে। এটি তাদের বোঝাতে চাই সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

সময় নিউজ.টিভি: কি রকম দেখতে চান ‘ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ’?

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: আমি আশাবাদী, বাংলাদেশ একদিন এই তরুণদের হাত ধরেই এগুবে। সঠিক তরুণ নেতৃত্ব, বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে বহুদূর। আমাদের দেশে '৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সাধারণ মানুষ। সে সময় বহু তরুণ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে, শুধুমাত্র দেশকে স্বাধীন করার জন্য। যে দেশ রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের যুদ্ধে এতো ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সে দেশ একদিন পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের একটি গৌরবজনক অর্জন, যেটি পৃথিবীতে বিরল।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে