বাবা যেন বনস্পতির ছায়া

Update: 2016-06-19 18:00:39, Published: 2016-06-19 18:00:40
baba
গুটি গুটি পায়ে হাঁটতাম সেই আঙুল ধরে। সকাল সকাল ঘুম ভাঙলেই জেগে উঠে দেখতাম তোমার মুখ। ওই আঙুল ধরেই বেড়িয়ে পড়তাম অবুঝ চা খেতে। এখন প্রতিদিন অনেক কাপ চা খাই। কিন্ত আব্বু,তুমিই শুধু পাশে নেই!

সারাদিন অফিসের ক্লান্ত সময়ের পর তোমার বাসায় ফেরার অপেক্ষায় থাকতাম। ক্লান্তির ছাপকে তাচ্ছিল্য করে মনভোলানো হাসি নিয়ে বাসায় ঢুকতে। ঝাঁপিয়ে পড়তাম তোমার হাতে থাকা প্যাকেট গুলোর দিকে,কি খাবার এনেছ সেটা নিয়েই যত কৌতূহল!পাকা চুল উঠানোর দায়িত্ব তুমি আর এখন আমাকে দাও না আব্বু। পড়ার সময় এখন আর বকাও শুনতে পাইনা। নাটক দেখার সময় তুমি এখন আর এসে সংবাদ দেখতে চাও না!আম্মুর ভয়ে তোমার লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য এখনো আমার দেখতে ইচ্ছে করে। দোকানে দেখা পছন্দের আবদার গুলো এখন আর সাথে সাথে মিটাতে পারি না।

অনেকদিন পর পর কেনা তোমার গায়ে নতুন শার্ট দেখে এখন আর ‘নায়ক’ বলে সম্বোধন করা সম্ভব হয় না। চশমা খোঁজার অভ্যাসটা আমি আজও মনে রেখেছি।স্কুল পালানোর অপরাধে বকা হয়তো দিয়েছিলে,আদর মাখা কোলে নিয়ে চোখের পানিও আব্বু তুমিই মুছে দিয়েছিলে। খাবার টেবিলে আমার নামটা হয়তো এখন আর উচ্চারিত হয় না। আমি খেয়েছি কিনা এটা কেউ জানতে চায় না।

সকাল সকাল আমার জন্য কেউ খুচরা টাকা রেখে যায় না। ক্রিকেট খেলা দেখার সময় প্রতিপক্ষের দল বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে তুমি অনেক পারদর্শী।  মাঝে মাঝে তোমার করা রসিকতা আমার সারা জীবনের আনন্দ। শৈশবে তোমার মুখ দিয়ে শোনা সেই চড়ুই এর গল্প এখনো মনে পড়ে। আব্বু,সমাজ ব্যবস্থা আর শিক্ষানীতির মাপযন্ত্রের গ্যাঁড়াকলে পড়েই আজ আমি তোমার কাছ থেকে দূরে। মুঠোফোনের ভিতর থেকে তোমার বলা ‘আব্বু’ ডাকটা কেমন জানো অস্পষ্ট লাগে। আমার আবদারগুলো এখন শুধুই তোমার ঘামে ভেজা কয়েকটি কাগজের নোটের ভিতরই সীমাবদ্ধ।

কংক্রিটের এই ধুলোময় শহরে সবই আছে আবার সবই নেই। ঈদের সময় তোমার সাথে শপিং এ যাওয়াটা এখন আর হয় না। তোমার অক্লান্ত পরিস্রমে কেনা সময়ের স্তম্ভগুলি জাপটে ধরেই আমি এখনো পথে চলি। তোমার অফুরন্ত ভালবাসা আমার কপালে সবসময় হাত বুলিয়ে দেয়। তোমার স্নেহ-মায়ার বেড়াজাল আমাকে ঘিরে থাকে। তোমার কষ্টভোলা মানসিকতা আমাকে প্রেরণা যোগায়।

মুঠোফোনে টাকায় কেনা সময়গুলো কেমন জানো তাড়াহুড়ো করে। গাড়ির হর্নগুলো তোমার কথা ঠিকমতো শুনতে দেয় না। তোমার কাছে যেতে অনেক ইচ্ছে করে। তোমার হাসিমুখ আমার অন্তরে বাঁধানো ছবি! তুমি সব থেকে সেরা,তুমিই আমার নায়ক, আমার আব্বু।

আল হাসান রাকিব
শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টরন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়





Update: 2016-06-19 18:00:39, Published: 2016-06-19 18:00:40

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( 1 )

  • Tuhin islam arko: at 2016-06-19 22:29:31
    so emotional vai.

More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ



সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv