বইমেলা শুভচিন্তার ইশতেহার

Update: 2016-01-31 20:16:33, Published: 2016-01-31 20:16:34
tusahar-vi
বইমেলা এসে গেছে। মাঘের হিম কুয়াশা কেটে যাচ্ছে নতুন বইয়ের উষ্ণতায়। কুয়াশার সামিয়ানা ছিড়ে রোদ উঁকি দিয়েছে। বাংলা একাডেমি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ছাপাখানাসহ সর্বত্র এখন উৎসবের ঘ্রাণ। উৎসব হবে আনন্দের, মাসজুড়ে বইমেলা মুখর থাকবে পাঠক, লেখক এবং প্রকাশকদের সরবতায়, এমন সুন্দর শুভকামনা থাকে বরাবরই। এবারও সেই সুন্দর প্রত্যাশা নিয়েই মেলার মাঠ সাজছে। বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি হচ্ছে। তবে আনন্দ সুবাসের পাশাপাশি উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা একেবারেই যে নেই এমন বলা যাবে না।

কারণ ২০১৫ সালের বইমেলায় অভিজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। যখন প্রকাশকরা ২০১৬’র বইমেলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলেন, তখনই জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়। একইদিন শুদ্ধস্বরের প্রকাশক টুটুলের ওপরও হামলা করা হয়। বইয়ের পাতায়, পাঠকের চোখে, লেখকের মননে, প্রকাশকের দোরগোড়ায় সেই রক্তের দাগ এখনও স্পষ্ট। প্রতিবার একটি জমজমাট মেলা হবে এই ভাবনা নিয়ে সবাই যখন মেলার মাঠে সমাগত হয়, তখনই রাজনৈতিক অস্থিরতায় মেলায় মৌনতা নেমে আসে। এবার অবশ্য রাজনৈতিক দিক থেকে পূর্বাভাস অনেকটাই পরিচ্ছন্ন  ও স্থিতিশীল।

বাংলা একাডেমিও মেলার পরিসর বাড়িয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই শিশুচত্বর রাখা হচ্ছে এবার। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দেয়ালের পাশ থেকেই মেলা শুরু হয়ে যাচ্ছে। অনেকটা হেঁটে গিয়ে দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশ করতে হচ্ছে না। প্রবেশের গেইটের সংখ্যা যেমন বাড়ানো হচ্ছে তেমন প্রশস্থ রাখা হচ্ছে মূল প্রবেশদ্বার। বলা হচ্ছে পাঠক, লেখক, প্রকাশকরা নিরাপত্তা নজরদারীর মধ্যেই থাকবেন। তবে এই আশ্বাস জারি করেই মেলা কর্তৃপক্ষের থিতু থাকার সুযোগ নেই।

প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাদের নিরাপত্তার কৌশল বদলাতে হবে। আমরা আগের বইমেলাগুলোতেও দেখেছি মেলার মূল হট্টগোল হয় প্রবেশমুখে। যারা মেলায় বিশৃঙ্খলা ঘটাতে চায়, তারা দলবদ্ধভাবে গেটে এসে অস্থিরতা তৈরি করে। এতে নারী ও শিশু দর্শনার্থীরা নিগ্রহের শিকার হন। এদিকটায় আয়োজকদের নজর দিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ে মেলার মাঠে যেন কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে সেদিকেও নজর রাখা দরকার।

অনেকের আশঙ্কা ছিল ২০১৫ সালের মেলা থেকে এ পর্যন্ত লেখক, প্রকাশকদের ওপর যে হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে, তাতে ২০১৬’র বইমেলা স্বল্পপ্রাণ নিয়ে ফিরে আসবে। মেলার মাঠে বই নিয়ে লেখক, প্রকাশকদের প্রবেশ ঘটবে সন্তর্পণে। কিন্তু না। হামলা ও ভীতি লেখক প্রকাশকদের প্রাণকে আরও অফুরান শক্তি দিয়েছে। দীপনকে হারিয়েও জাগৃতি আছে মেলা মাঠে।

বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালির জাগরণ আরও অনিবার্য হয়ে উঠেছে। মেলা মাঠে শুদ্ধস্বরও আছে। কারণ আরও প্রকট হয়েছে রাজনৈতিক শুদ্ধতার দাবি। লেখকরাও দমে যাননি। আরও নতুন মুক্তচিন্তার বিষয় নিয়ে, নতুন প্রজন্মকে বাতিঘরের পথ দেখাতে মলাটবন্দি করে তারা মেলায় এনেছে শুভচিন্তা। এবারের মেলা তাই শুভচিন্তা বিকাশ ও প্রসারেরও।

কারণ একেকটি বইমেলা আমরা অতিক্রম করে আসতে আসতে দেখেছি, প্রযুক্তি, ভিনদেশি সংস্কৃতির মিশেল, অশুদ্ধ রাজনীতির চর্চা, আস্ফালনে শুভচিন্তা কেবল সংকীর্ণ হয়ে পড়ছিল। ২০১৫’র তারই প্রামাণিক অধ্যায় ছিল। সেখান থেকেই আবার পুনঃজাগরনের বীজ বপণ করতে হয়েছে। শুভচিন্তার সেই চারা গাছ নিয়েই বাঙালি পাঠক, লেখক, প্রকাশক এবার প্রাণের বইমেলার মাঠে।

একুশ চেতনায় আমাদের সেই শুভচিন্তার চারাগাছটি মহীরূহে রূপ নিক। আমরা তার ছায়াতলে বেড়ে উঠতে চাই। তাই এবারে বইমেলা প্রতিবাদ ও শুভচিন্তা মুক্তির ইশতেহারও।

Update: 2016-01-31 20:16:33, Published: 2016-01-31 20:16:34

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( 1 )

  • Sonia: at 2016-06-19 21:26:45
    Onek valo legeche lekhata pore,Bara shobar jiboner hero e hoy.Bisesh kore meyeder jiboner prothom valobasha tader baba. Prithir shob babar k janai onek sroddha abong valobasha

More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ



সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv