মহানগর সময় ডেস্ক
আপডেট
০৩-১১-২০১৭, ০৭:৩৭
মহানগর সময়

প্রায় পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা নিয়েও বন্ধ হচ্ছে না ট্রাফিকদের টার্গেট মামলা

target-caseedt
প্রতি মাসে জরিমানা হিসেবে গড়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় হওয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না ট্রাফিক সার্জেন্টদের টার্গেট মামলা। চালকদের অভিযোগ, সার্জেন্টরা রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরানোর চেয়ে মামলা দেয়াকেই বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন। সার্জেন্টরা এর জন্য দায়ী করছেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অলিখিত আদেশকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্জেন্টদের এমন টার্গেট বেঁধে দেয়া হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরার বদলে অন্যক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ব্যস্ত সড়কে গাড়ি থামিয়ে মামলা করছেন ট্রাফিক সার্জেন্টরা। রাজধানীবাসীর কাছে যা চিরচেনা দৃশ্য। ডিএমপির তথ্যমতে, ঢাকার চারটি জোনে মোট ৬০০টি স্পটে পজ মেশিনের মাধ্যমে মামলা করে থাকেন সার্জেন্টরা। উদ্দেশ্য যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো। তবে চালকদের দাবি, সার্জেন্টরা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেয়ে মামলার নির্দিষ্ট টার্গেট পূরণেই বেশী ব্যস্ত থাকেন।

নাগরিকরা বলেন, আমরা যদি তাদের বলি মামলা দিয়েন না। তারা বলে আমাদের টার্গেট আছে। মামলা দিতেই হবে। একবার মামলা দেয়া হয় তার উপর আবার মামলা দেয়া হয়। তারা বলে উপর থেকে চাপ আসে এটা আমার টার্গেট আমাদের মামলা দিতেই হবে। অনেক সময় সীমিত অপরাধের কারণে গাড়ি ডাম্পিং করা হচ্ছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিষয়টি স্বীকার করে সার্জেন্টরা জানান, বিভাগীয় প্রধানদের টার্গেট অনুযায়ী জনপ্রতি মাসে ২০০টি মামলা ও ৫০টি গাড়ি ডাম্পিং না করতে পারলে নানাভাবে তাদের হেনস্থা করা হয়।

তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক গাড়ির তেমন কোন সমস্যা না থাকলেও আমাদের টার্গেট পূরণ করার জন্যে মামলা দিতে হয়। অনেক সময় ডাম্পিং এর কোটা পূরণ না হলে বাধ্য হয়েই করতে হয়। টার্গেট পূরণ না করতে পারলে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুধু ঢাকাতেই নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতি মাসে লক্ষাধিক মামলা দিচ্ছেন সার্জেন্টরা। যেখান থেকে গড়ে প্রতিমাসে জরিমানা আদায় হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি টাকা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্জেন্টদের ওপর এই বাড়তি চাপের কারণে গুণগত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। ঘটছে না দক্ষতার বিকাশও। তবে ডিএমপি ট্রাফিক প্রধানের দাবি, টার্গেট নয় বরং সার্জেন্টদের কাজের গতি বাড়াতে এই ব্যবস্থা।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট কোন টার্গেট নাই। কিন্তু কাউকে মামলার টার্গেট না দেয় বা বাদ দেয় দুটোয় আমাদের জন্যে সমস্যা। সেক্ষেত্রে আমরা মাঝামাঝি পন্থা অবলম্বন করি।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, টার্গেট পূরণ করায় মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়। যার ফলে সেবার মান কমে কিন্তু বাড়ে না। একটা সংখ্যা বসিয়ে দিয়ে আইনের প্রয়োগ করা কখনোই উচিত না। এর ফলে কিছু দিন পরে শোনা যাবে খুনের আসামী ধরা হচ্ছে টার্গেট করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন চালকরা অপরাধ করলে কিংবা আইন না মেনে গাড়ি চালালে সার্জেন্ট ট্রাফিকরা মামলা করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে সে মামলা যদি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্যে তাহলে অপরাধ কমবে না বরং বিশৃঙ্খলা বাড়বে বলে মনে করেন তারা।




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে