পালিত হোক সহিংসতা’র শ্রাদ্ধ

Update: 2015-03-06 19:55:29, Published: 2015-03-06 19:55:29
10441269-10152193921321989-5928071389608788714-n
রাজনীতি কি নিজের বৃত্তে ফিরে আসার পথ ধরলো? এটি আমার ইতিবাচক সংশয়। রাজনীতির ক্ষমতানীতিতে রূপান্তর ঘটলো কিনা, এ যেমন আমার নেতিবাচক সংশয়। তেমনি আমাদের রাজনীতিবিদরা প্রতিহিংসা থেকে সরে এসে রাজনীতি করতে শুরু করলেন কিনা? এটি আমার ইতিবোধক সংশয়।তিন মার্চ থেকেই রাজনীতিকে ঐ পথে মনে হয় হাঁটতে দেখা গেলো। মনে হয় বলছি এজন্য যে, মনেতো শঙ্কা রয়েই যায়, এই বুঝি রাজনীতির কোন সহিংস রূপের খবর আসে, বা দেখতে পাই। মঙ্গলবার প্রথম ইশারাটি পাই বিএনপি’র দিক থেকে। বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের পক্ষ থেকে বলা হয়-বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আদালতে যাবার জন্য যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এবং চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের নিশ্চয়তা দেয়া হয়, তাহলে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাবেন। বিএনপি’র দিক থেকে এই বক্তব্য আসাটিকে সুবাচক ভাবছি এজন্য যে এর মধ্যে রাজনীতি চর্চার একটি প্রয়াস রয়েছে। রাজনীতিতে আবর্তে ফিরে আসার একটি তাগিদ লক্ষ্য করা যায়। এখানে প্রতিহিংসা পরায়ণতা, আদালতকে উপেক্ষা করার কোন লক্ষণ আমি খুঁজে দেখতে চাইনি। পরমুহূর্তেই আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে যে বক্তব্যটি এলো, তাতে বিএনপি’ ঐ আবদারকে হয়তো তিনি উড়িয়েই দিলেন এই বলে যে-আবদারটি আইনসিদ্ধ নয়। বিএনপি আকাশ চাইলেইতো আর তাদের আকাশ দেয়া যাবেনা। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যও রাজনীতি সুরভিত। এক পক্ষের রাজনীতির জবাব প্রতিপক্ষ এভাবেই দেবে। রাজনীতির মাঠে এ ধরনের বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য দেখতে অভ্যস্ত নাগরিকেরা। এখানে দুই পক্ষের কেউই কাউকে হেয় বা অবজ্ঞা করেনি।

দুই পক্ষের এই বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের পরেই দেখতে পেলাম খানিকটা নিজেদের আড়াল করে, অনানুষ্ঠানিক আবরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ কূটনীতিকদের একটি দল বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করলেন। বৈঠকটি দীর্ঘ সময়ের ছিল। এই বৈঠক যখন চলছিল, তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের বাইরে অপেক্ষমাণ গণমাধ্যম কর্মীরাই কেবল নয়, পুরো দেশবাসী উৎকণ্ঠা এবং উদগ্রীব যে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে কখন পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করছে বা তিনি বুধবার সকালে গ্রেফতার হচ্ছেন কিনা? অথবা আদতেই তিনি বকশীবাজারের আদালতে স্বেচ্ছায় না পুলিশী চাপে হাজির হচ্ছেন।

দুইপক্ষের এই বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যের পরেই দেখতে পেলাম খানিকটা নিজেদের আড়াল করে,অনানুষ্ঠানিক আবরণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত,ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ কূটনীতিকদের ১৫ সদস্যের একটি দল বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করলেন। বৈঠকটি দীর্ঘ সময়ের ছিল।এই বৈঠক যখন চলছিল, তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের বাইরে অপেক্ষমাণ গণমাধ্যম কর্মীরাই কেবল নয়, পুরো দেশবাসী উৎকণ্ঠা এবং উদগ্রীব যে খালেদাজিয়ার গুলশান কার্যালয়ে কখন পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করছে বা তিনি বুধবার সকালে গ্রেফতার হচ্ছেন কিনা? অথবা আদতেই তিনি বকশীবাজারের আদালতে স্বেচ্ছায় না পুলিশী চাপে হাজির হচ্ছেন। বৈঠক শেষে কোন পক্ষ থেকেই খোলাসা কোন কথা পাওয়া যায়নি।তিনপক্ষই নিজেদের মতো করেই বৈঠকের প্রতিপাদ্য’র কথা জানিয়েছে। আসলে সাধারণ মানুষ সেই প্রতিপাদ্য জানতে খুব একটা আগ্রহী নন। কারণ তারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটুকু বিশ্বাস করতে চায় যে, কূটনীতিকদের এতো বড় একটি বহর বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেছে, এতে সরকারেরও হয়তো একটি ইতিবাচক সংকেত রয়েছে। অর্থাৎ রাজনীতি হয়তো লাল থেকে সবুজে যেতে হলুদে অবস্থান করছে। মঙ্গলবার রাতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে কোন তল্লাশি অভিযান হয়নি। তিনি নিজে আদালতে যাননি।বা তাকে নিয়ে যাওয়ার কোন উদ্যোগ  নেয়া হয়নি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে। বরং বৃষ্টিস্নাত সকালে জানা গেল, বিএনপি বুধবার প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর চেহলাম পালন করবে। গুলশান কার্যালয়ে মৌলভিদের প্রবেশ করতেও দেখা গেলো। ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠপুত্র মালয়েশিয়ায় মারা যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরা দেয়ার দিনটিতে চেহলাম পালনের সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক কৌশল। এই কৌশলটিকে জনমানুষ খুব নেতিবাচকভাবে নেয়নি। বিপক্ষের মানুষেরাও মুচকি হেসে বলেছে-যাক সহিংসতার চেয়ে বরং এই কৌশলটিই ভাল। কেনো আদালতে গেলেন না খালেদা জিয়া সেই বিষয়ে বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে-নিরাপত্তার বিষয়ে বিএনপি’র পক্ষ থেকে কোন আশ্বাস মেলেনি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন-সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখেছিল, যদিও তারা আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি। আর দুদক বলেছে-আইনের দৃষ্টিতে খালেদা জিয়া পলাতক আসামী। খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলা দু'টি পরবর্তী দিন ৫ এপ্রিল নির্ধারণ করেন আদালত। জনমানুষ আদালতের এই নির্দেশনার মধ্যেও সুলক্ষণ খুঁজে পেয়েছে। তারা বিশ্বাস করতে চাচ্ছে পর্দার আড়ালে দুইপক্ষের মুখ দেখাদেখিতো শুরু হয়েছেই, এমনকি কথোপকথনও শুরু হয়েছে।তাই বুধবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন-জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য খালেদা জিয়া নিজেই গ্রেফতার হতে চাচ্ছেন। তখন তার এই বক্তব্যটি এবং নতুন ঘোষিত তিন বিভাগ নিয়ে আলোচনায় ফেনী জেলাকে কোন বিভাগের আওতায় দেয়া হবে প্রসঙ্গে তার শ্লেষধর্মী মন্তব্য-ফেনীতে জঙ্গী নেত্রীর উদ্ভব হওয়ায়, কেউ ফেনীকে নিতে চাচ্ছে না। এই বক্তব্যের পরও ‘সু’র প্রতি আস্থা রাখতে চায় জনগণ। ৪৮ ঘণ্টায় বিচ্ছিন্ন ককটেল বা পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে।

কিন্তু বিগত ৬০ দিনের চেয়ে সহিংসতার উদ্বেগ খানিকটা কমেছে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের বিজয়ের খবর এসেছে। বিজয়ে আনন্দে মেতে উঠতে কোন বিভাজন ছিলনা ৫৬ হাজার বর্গমাইলে। দুইমাসের সহিংসতা থেকে মুক্ত হবার যে চাওয়া, সেখানেও না থাকুক কোন বিভক্তি। দেখতে চাই দেশ জুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ‘সহিংসতার’শ্রাদ্ধ।এই যে সম্ভাবনা, বা আশাবাদের কথা বলেই যাচ্ছি, তাতে ক্লান্ত হতে চাই না। কিবোর্ড কখনো কখনো হয়তো ক্লান্ত হয়। কিন্তু আবারো চাঙা হয়ে উঠে আমার মনের তাড়নার সায় দিতে।

Update: 2015-03-06 19:55:29, Published: 2015-03-06 19:55:29

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ



সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv