SOMOYNEWS.TV

তবুও আশায় বুক বাঁধি

Update: 2016-09-18 20:51:29, Published: 2016-09-18 20:51:29
nobel-via
চারদিকে যখন বন্যা, অগ্নিকান্ড, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জঙ্গীবাদ, মাদক, মৃত্যু আর সামাজিক অস্থিরতার খবর শুনি, টেলিভিশন পত্রিকার কাটতি যখন গুম-খুন আর ধর্ষণের খবরে, তখন দু’একটি ভালো সংবাদ জ্বলে উঠতে গিয়েও দপ করে নিভে যায়। লজ্জায় মুখ লুকায় পত্রিকার শেষের পাতায় আর টেলিভিশনের কামিং আপে। এদেশের মানুষের জীবনের গতিসীমা পরিমাপ করতে টেলিভিশন নামক সহজলভ্য যন্ত্রটিই যথেষ্ট। সংবাদভিত্তিক চ্যানেল গুলোর আকাশচুম্বী ব্যবসায়িক সাফল্যের বিপরীতে অনুষ্ঠানভিত্তিক চ্যানেলগুলোর টিকে থাকার যেন নিরন্তর সংগ্রাম। আমরা যেন ভূলতেই বসেছি টেলিভিশন একটা বিনোদনের বস্তু। এটা কি জীবনের গতি? নাকি অস্থিরতা। দু’একটি কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন বাদ দিলে এদেশের যুব সমাজের সাফেল্যর গল্প বলে যেন কিছু নেই। সবই ব্যার্থতায় ভরা। শুধু অপরাজনীতি, জঙ্গীবাদ, অস্ত্রবাজী, মাদক সেবন আর মাদকের ব্যবসাই যেন জানে এদেশের যুবকরা। কখোনো মনে হয়, গণমাধ্যমগুলো কি দেশের যুবসমাজকে ব্যার্থ প্রমাণে ব্যস্ত ? বিশাল অর্থনীতির গণমাধ্যমকে এমন প্রশ্ন করার দুঃসাহস আমার মতো আমজনতার নেই। নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি-যে ছাত্র-যুব সমাজ এদেশের স্বাধীনতা এনেছে, স্বৈরাচারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে সেই ছাত্র-যুবসমাজের সৌর্য-বীর্যে কি আজ ভাটা পড়ে গেল? সেই ছাত্র-যুবদেরই আজ নিরাপত্তা নেই, না সামাজিক, না অর্থনৈতিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে কথা হচ্ছিল-রাস্তায় পুলিশি তল্লাশি নামক হয়রানি থেকে বাঁচতে তারা নীলক্ষেত থেকে অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিকের ভূয়া পরিচয়পত্র বানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড দেখিয়ে হয়রানি হওয়ার বদলে নিবন্ধনবিহীন অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিলে পুলিশ কিছুটা সমীহ করে। সেজন্য ছাত্ররা এই ফর্মূলাটি গোগ্রাসে গিলছে।

সাম্প্রতিক দেশে ঘটে যাওয়া বড় বড় দূর্ঘটনাগুলো যে কোন বিবেকবান মানুষকেই ভাবায়। থমকে যেতে বাধ্য করে কয়েক মুহূর্তের জন্য। আমরা হতাশায় ভুগী। আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর কথায় আশ্বস্ত হইনা। চারিদিকে যেন একটা অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। দরজা-জানলা সব যেন আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর নাম কি সভ্যতার সংকট ?
ভ্যাপসা গরমের মধ্যে একটু হিমেল হাওয়া বয়ে গেলে দেহ-মনে যেমন পরিতৃপ্তি পাওয়া যায়, তেমনি একটা সুখের খবর জানালেন সরকারের মাননীয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। বহুল প্রতীক্ষীত স্বপ্নের চাকুরীর বাজার সৌদি আারবে বাংলাদেশী  শ্রমিক যাবার অনুমতি মিলেছে। অন্তত অল্পশিক্ষিত বেকারদের একটা রফা হলো। এই খবরে কিছুক্ষণের জন্য অহ্লাদিত হলেও পরক্ষণেই দুশ্চিন্তা খেলা করে কপালের ভাঁজে। আবারো মালয়েশিয়ার পরিণতি হবেনাতো? প্রতিনিয়ত দুঃচিন্তার মাঝে বসবাস করতে করতে হয়তো এটা অভ্যস্ততায় রুপ নিয়েছে। তবু এগিয়ে তো যেতে হবে।

সরকারের এমন সফলতাকে অভিনন্দন না জানানো অকৃতজ্ঞতারই সামিল হবে। বিটুবি বা জিটুজি যে প্রক্রিয়ায় হোক না কেন, আমাদের যুবকদের কর্মসংস্থান চাই। বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত বাংলাদেশ চাই। সকল অশুভ শক্তির হাত থেকে যুবকদের বাঁচাতে কর্মসংস্থানের কোন বিকল্প নেই। সেজন্য অবশ্যই সরকারকে করতে হবে কঠোর নজরদারি।
হাজারো দুঃসংবাদের ভীড়ে সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি সুসংবাদ হলো-এফএলটিসি(ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার)।  সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে সকল বড় জেলা শহরের সরকারী কলেজগুলোতে নামমাত্র মূল্যে চালু করেছে বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । যেখানে সকাল-সন্ধ্যা কয়েকটি ব্যাচে মাত্র ১৫০০ (একহাজার পাঁচশত) টাকায় তিনমাস ব্যাপি ৪০-৬০টি ক্লাশের মাধ্যমে ইংরেজী, আরবি, কোরিয়ান, ফ্রেঞ্চ, চাইনিজ ও জাপানিজ ভাষা  প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বিগত সময়ে কোরিয়াগামীদের  ভাষা প্রশিক্ষণের দৌড় প্রতিযোগীতার কথা আমাদের অজানা নয়। বেসরকারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ১০-২০ হাজার টাকায় যে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় সে তুলনায় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানের সেবা আকাশ-পাতাল ব্যবধান। এফএলটিসিতে বিশ্বমানেরও বিদেশী প্রশিক্ষক ছাড়াও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম এবং আন্তর্জাতিকমানের কোর্স কারিকুলাম নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শুধু বিদেশে কর্মী হিসেবে নিয়োগ নয়, অনেকে উপজেলা পর্যায়ে খুলেছেন নিজস্ব ভাষা শিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। এমনকি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এখান থেকে ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশী মিশনে গিয়ে রাখছেন সফলতার স্বাক্ষর।



দ্রুত কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অনেকে অনুধাবন করতে পারলেও বিদেশি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে থাকছেন পিছিয়ে। দেশের বেকার যুবকরা কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যদি বিদেশি ভাষা রপ্ত করতে পারে তবে সহজ ভিসা প্রাপ্তির পাশাপাশি বেশী উপার্জন করতেও সামর্থ্য হবে। এই প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক জসীম উদ্দিন জানান- এফএলটিসির অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিসুবিধা বিনামূল্যে দিচ্ছে শিক্ষামন্ত্রণালয়, শুধু প্রশিক্ষকের সম্মানীর অর্থ প্রশিক্ষণার্থীর নিকট থেকে নেয়া হয় । সেজন্যই মাত্র ১৫০০(একহাজার পাঁচশত) টাকায় এতবড় প্রশিক্ষণ সুবিধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। নূন্যতম এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যে কেউ এফএলটিসির এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও ভবিষ্যতে যেন বিদেশী প্রশিক্ষকের মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকতে হয়, সেজন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে তৈরী করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন-সরকার অনতি বিলম্বে কর্মী হিসেবে বিদেশে যাবার পূর্বে সেদেশের ভাষা প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করে দেবেন। যাতে নিশ্চিত হবে শ্রমিকের নিরাপত্তা, পাবে নায্য মজুরী।

সর্বোপরি ভিসা উন্মুক্ত হওয়া, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণ সবকিছুই শুভ দিনের ঈঙ্গিত। লাখো বাঙালী শরনার্থী জীবন কাটিয়েছে, আইলা-সিডর জয় করেছে, ঘর বেঁধেছে বার বার, ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনে। দেশের হতাশাগ্রস্থ-নিরাপত্তাহীন বেকার যুবকরা সরকারের  এধরণের মহতী উদ্দ্যেগ গুলোর সুফল হিসেবে ফিরে পাবে হারানো সামাজিক- অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। সেই আশায়তো বুক বাঁধতেই পারি।

জোবায়ের নোবেল
লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী


Update: 2016-09-18 20:51:29, Published: 2016-09-18 20:51:29

More News
loading...

সর্বশেষ সংবাদ



Contact Address

Lavel-9, Nasir Trade Centre,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205.
Fax: +8802 9670057, Email: info@somoynews.tv
উপরে