SOMOYNEWS.TV

টিভি দেখতে ক্লিক করুন

জল-পাথরের স্বর্গ বিছানাকান্দি

Update: 2015-09-08 20:32:39, Published: 2015-09-08 20:32:39
11911639-1046491978703529-1
স্বচ্ছ জলধারা। নীল আকাশ আর থরে থরে বিছানো পাথর। দূরে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ পাহাড়ের হাতছানি। এসব কিছুর মেলবন্ধনেই অপরূপ বিছানাকান্দি। হ্যাঁ, সিলেটের স্বর্গ বিছানাকান্দি। সীমান্তের ওপার থেকে বয়ে আসা স্বচ্ছ জলধারা আর পাথরের মায়াজালে যেখানে হারিয়ে যাবেন নিমিষেই। স্বচ্ছ স্রোতধারায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন অন্য এক রাজ্য। যেখানে মেঘ, পাহাড় আর জলধারার মিতালী আপনাকে আপন করবে গভীর মমতায়।



তিলোত্তমা ঢাকার হাজারো ব্যস্ততা থেকে একটুখানি অবসর নিতেই শুরু হয় আমাদের যাত্রা। দশজনের টিম নিয়ে সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা। ঢাকা থেকে বাসযোগে সিলেট। এরপর হোটেলে বিশ্রাম শেষে মূল গন্তব্যের পথে। সিলেট শহরের বিমানবন্দর রোড ধরে বিছানাকান্দির পথ। দু'পাশে সবুজ চা বাগান। অবারিত সবুজ পেছনে ফেলে আমরা যেতে থাকি গন্তব্যের দিকে। এই পথ ধরে যেতে যেতে মনে হতে লাগলো পুরো পৃথিবীটাই যেন সবুজের রাজ্য। এছাড়াও আঁকা বাঁকা পাহাড়ি উঁচুনিচু পথটাও বেশ শিহরিত করে তুললো আমাদের। অবশেষে পৌঁছে যাই জলপাথরের ভূমি বিছনাকান্দি! দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত শুধু পাথর আর পাহাড়। 

অনাবিল আনন্দে জলপাথরের বিছানায় শুয়ে বসে ছবি তোলা, গোসল আর হৈ-হুল্লোড়ে সময়ের হিসেব হারিয়ে ফেলার অবস্থা আমাদের। বিছানাকান্দির পর্ব শেষে পরদিন গন্তব্য পাংথুমাই ঝরণা। পাহাড় থেকে নেমে আসা অঝোর ধারায় নেমে আসা পানির শব্দে অনাবিল এক পরিবেশ। শুরু হয় ঝরণার পানিতে স্নান করা, ছবি তোলা।



এরপর ভাবলাম সিলেট যখন এসেই পড়েছি তখন এর সব সৌন্দর্যের স্বাদটুকু নিয়েই ফিরবো। তাই এবারের গন্তব্য রাতারগুল এর পথে। জল আর উদ্ভিদে ঘেরা বাংলার আমাজন বন। রোদ আর পানির খেলা চারপাশে। এখানকার সবুজের আহাজারি দেখতে নৌকা নিয়ে ভাসতে থাকি। ভাসতে ভাসতে যেতে থাকি ঠিকানাহীন পথে। কিন্তু না, ফেরার সময় সন্নিকটে। প্রকৃতির সঙ্গে কাটানো মনোমুগ্ধকর স্মৃতি নিয়ে ব্যস্ত শহরে ফেরা। 

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে সিলেটে ট্রেনে বা বাসে করে যেতে পারেন। সিলেট শহর হতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে বিছানাকান্দি গ্রাম। সিলেটের আম্বরখানা থেকেও যাওয়া যায় আলাদাভাবে। সেখানে প্রতি সিএনজিতে চারজন করে নেওয়া হয় হাদার বাজার পর্যন্ত। ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা। তবে শহরের আম্বরখানা থেকে সিএনজি নিলে সহজে এবং কম খরচে বিছানাকান্দি যাওয়া যায়। বাজারের পাশেই খেয়াঘাট। ঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ করে যাওয়া যায় বিছানাকান্দি। তবে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার নজির কমবেশি চোখে পড়বে। তাই আগে থেকেই এখানকার ভাড়া জেনে নিয়ে যেতে পারেন। নৌকায় যেতে যেতে দেখতে পাবেন দু'পাশে সবুজ গ্রামের প্রতিচ্ছবি। এর সঙ্গে দূরে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো মিলেমিশে যেন একাকার। মেঘ-পাহাড়ের মিতালী দেখে অবাক হবেন যে কেউই। মনে হতে পারে কল্পনার মানসপটে আঁকা ছবি। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ২০ মিনিট।

কোথায় থাকবেন:

পর্যটনকে ঘিরে সিলেট শহরে গড়ে উঠেছে অনেক উন্নতমানের হোটেল। বিছানাকান্দিতে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা যায় সিলেট শহর থেকে। তাই সিলেট শহরেই থাকতে পারেন। এখানকার অভিজাত হোটেল-রেস্টুরেন্টের ভাড়া পড়বে ৩০০ থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। নিরাপত্তাও ভালো আছে হোটেলগুলোতে। দরগা গেটে আরও কয়েকটি ভালো হোটেল রয়েছে। এছাড়া নলজুড়ি উপজেলা সরকারি ডাকবাংলোতেও রাত কাটাতে পারেন। এ জন্য পূর্ব অনুমতি থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রুমপ্রতি ভাড়া ৫০০ টাকা। আর সাধারণের জন্য ১৫০০ টাকা।

Update: 2015-09-08 20:32:39, Published: 2015-09-08 20:32:39

More News
loading...

সর্বশেষ সংবাদ



Contact Address

89, Bir Uttam CR Dutta Road,
Banglamotor, Dhaka 1205, Bangladesh.
Fax: +8802 9670057, Email: info@somoynews.tv
উপরে