জঙ্গি দমনে সফলতার দাবি পুলিশের, অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক

Update: 2017-01-11 07:22:02, Published: 2017-01-11 07:22:02
jongi-cross


গেলো ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একের পর এক অভিযানে মারা গেছে ৩০ জঙ্গি। গ্রেফতারও হয়েছে অনেকে। এই অবস্থায় জঙ্গিবাদ দমনে নিজেদের অনেকটাই সফল দাবি করছে পুলিশ। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বন্দুকযুদ্ধ কিংবা অভিযানে হত্যার মাধ্যমে সাময়িক সাফল্য পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী সাফল্যের জন এটি সঠিক পথ নয়।

পুলিশ প্রধান বলছেন, উগ্রবাদ রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।

গুলশান হলি আর্টিজান হামলার ভয়াবহতা ও নৃশংসতায় গোটা দেশ যখন শোকে বিব্হল তার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কল্যাণপুরে পুলিশি অভিযানে মারা যায় দশ জঙ্গি। জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার হয় আইএসের পতাকা ও পোশাক। বড় ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি নিতেই জঙ্গিরা এখানে আস্তানা গেড়েছিলো বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

নারায়ণগঞ্জে আরেকটি অভিযানে নব্য জেএমবির সামরিক শাখা প্রধান তামিম চৌধুরীসহ তিনজন মারা যায় ২৭ আগস্ট। এর পর একে একে রাজধানীর রূপনগর, আজিমপুর গাজীপুরের পাতারটেক, টাঙ্গাইল, আশুলিয়া ও আশকোনায় আলাদা আলাদা অভিযানে নিহত হয় ২৮ জঙ্গি। সবশেষ মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় গুলশান হামলার অন্যতম দুই পরিকল্পনাকারী মারজান ও সাদ্দাম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো হতে পারে জঙ্গিবাদ মোকাবেলার আপাত সমাধান। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে গেলে কাজ করতে হবে শেকড় থেকে।

অপরাধ বিজ্ঞানী শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, 'কখনো কখনো হালি আর্টিজানের মতো মিলিটারি সাপোর্টের দরকার হতে পারে। সামাজিকীকরণ, রাজনীতির ভেতরে জঙ্গি তৈরির উপাদান রেখে দিয়ে মিলিটারি সলিউশন দিয়ে এটির সমাধান করা যাবে না।'

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অব. এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার বলেন, 'পুলিশের জঙ্গি দমনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কার্যক্রমটি অর্থাৎ গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে তাহলে জঙ্গিদের যে প্রস্তুতিমূলক বিষয়গুলো এবং নতুন লোককে দলে ভেড়ানোর তথ্যগুলো পুলিশ পাবে।'

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলছেন, জঙ্গিদের জীবিত ধরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করলে, আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করলে ঘটে হতাহতের ঘটনা। এই অবস্থা মোকাবিলায় তরুণরা যাতে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ না হয় সে লক্ষ্যে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তারা।

পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, 'পরিবার থেকে যদি প্রতিরোধ আসে, তারা যদি সচেতন হয় যে, তার সন্তান এই পথে যাচ্ছে কি না। মানুষকে সচেতন করতে পারলেই জঙ্গিবাদের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।'

পুলিশ প্রধান আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে অবাধ তথ্য প্রবাহের ফলে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণেও দেশিয় জঙ্গিরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।




Update: 2017-01-11 07:22:02, Published: 2017-01-11 07:22:02

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ



সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv