আপডেট
২৬-০৩-২০১৫, ০১:২৭

গৌরবদীপ্ত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ

26-march
২৬ মার্চ। গৌরবদীপ্ত মহান স্বাধীনতার দিন আজ। বহু বছরের পরাধীনতার গ্লানি আর শেকল ভাঙ্গার এই দিনটি বাঙালির জাতীয় জীবনে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। ৭১ এ ২৬ শে মার্চ এই জনপদে কোটি কোটি বাঙালির হৃদয়ে মুক্তি আকাঙ্ক্ষার যে সশস্ত্র প্রদীপটি জ্বলে উঠেছিলো, বিজয়ের মধ্যদিয়ে তারই রক্তস্নাত পূর্ণতা ছিলো ১৬ই ডিসেম্বরে।
কিন্তু সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচারের আশায় যে জনযুদ্ধে বাঙালি প্রাণ দিয়েছে অকাতরে- সেই লক্ষ্য কি আজও পূরণ হয়েছে? ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা বলছেন, লাল সবুজের একটি পতাকা, মানচিত্রে সীমানা খচিত একটি ভূখণ্ড আর একটি জাতীয় সঙ্গীত আমরা পেয়েছি ঠিকই কিন্তু জনমানুষের যে মুক্তি তা এখনও অধরাই রয়ে গেছে।

সময়টা তখন শৃঙ্খল ভাঙ্গার। ২৩ বছরের বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্বাধিকারের দাবিতে উত্তাল বাংলা। অগ্নিঝরা সেই মার্চে মুক্তি পাগল বাঙালিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোনান মুক্তির মন্ত্র।

এরপর থেকেই বাংলার নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বঙ্গবন্ধুর হাতে। দিশেহারা পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা আলোচনার নামে করতে থাকে কালক্ষেপণ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২৫শে মার্চ রাতে ব্যারাক থেকে বেরিয়ে আসে ইয়াহিয়ার হিংস্র শাপদের দল।

রক্তে রঞ্জিত হয় ঢাকার রাজপথ, সবুজ বাংলার শ্যামল প্রান্তর। সে রাতে গ্রেফতারের আগে ওয়্যারলেসে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। একদিন পর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণাটি পাঠ করেন মেজর জিয়াউর রহমান।

শুরু হয় মুক্তির যুদ্ধ। দেশের আনাচে কানাচে, শহরে বন্দরে বাংলার সাধারণ জনগণের এ ছিলো অসাধারণ প্রতিরোধ। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জীবন মরণ সংগ্রামের শেষ অধ্যায়।


ইতিহাসবিদরা বলছেন, বাঙালির ইতিহাসে ২৬ শে মার্চ অনন্য। কিন্তু দেশ স্বাধীনের এত বছর পরও জনমানুষের মুক্তি এখনও আসেনি।

ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বত্তা অর্জনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু মুক্তির সংগ্রাম আজও চলমান।'

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'সমষ্টিগত মুক্তি এখনো আসেনি। এখন যেটা হয়েছে যে কিছু মানুষ মুক্ত হয়েছে। আর পুঁজিবাদী ব্যবস্থাটা মুক্তি পেয়ে গেছে।'

তাদের মতে, আমাদের রাজনীতি এখনো ঘুরপাক খায় বিভেদের রাজনীতির কাছে।

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, 'এজন্য যেটা দরকার ছিল সেটা হলো একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু আমাদের ৪৪ বছরের ইতিহাসে আমরা সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।'

ইতিহাসবিদ ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, 'বঙ্গবন্ধু এবং জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় এই বিতর্ক আমি শুনিনি। এদের দু'জনের লোকান্তরের পর বিতর্ক শুরু হলো। এবং দু'পক্ষ থেকেই শুরু হলো কে কাকে কতটুকু ছোট করতে পারে।'

আর এ কারণে এখনও মুক্তিযুদ্ধের সর্বজন গ্রাহ্য সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কিংবা স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকে।

১৯৭১ সালে এমনই এক বসন্তের ঝলমলে দিন শেষে নেমে আসে গণহত্যার রাত। ধ্বংসের সেই কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অদম্য বাঙালি এক সাগর রক্তে ভেসে অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা কী পেরেছি; সেই ত্যাগকে ধারণ করতে?




DMCA.com Protection Status

এই বিভাগের সকল সংবাদ

Contact Address

Nasir Trade Centre, Level-9,
89, Bir Uttam CR Dutta Road, Dhaka 1205, Bangladesh
Email: somoydigitalsomoynews.tv

Find us on

  Live TV DMCA.com Protection Status
উপরে