একুশে গ্রন্থমেলা: রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লোকসানের আশঙ্কা

Update: 2015-02-19 12:33:41, Published: 2015-02-19 12:32:00
একুশে গ্রন্থমেলা: রাজনৈতিক কর্মসূচিতে লোকসানের আশঙ্কা
এবারের একুশে বইমেলার প্রথম ১৭ দিনে যে পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে তা গতবারের তুলনায় কম বলেই জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে রাজধানীর বাইরের ক্রেতারা আসতে না পারায় বিক্রি কম বলে মনে করেছেন তারা। তবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি, আশা করছে এবারের মেলায় ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকার বই বিক্রি হবে।

ফেব্রুয়ারির প্রতিটি বিকেল মানেই যেন লেখক-পাঠকের কাছে অমর একুশে বইমেলা। বেলা তিনটায় মেলার গেট উন্মুক্তের পর থেকেই প্রিয় লেখকের নিত্যনতুন সব বইয়ের খোঁজে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন মেলা প্রাঙ্গনে। আর পাঠকদের কথা ভেবে প্রকাশকরাও তাদের স্টল-প্যাভেলিয়ন সাজিয়েছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন স্বাদের বইয়ে।

তবে এতসব আয়োজনও যেন ফিকে হতে চলেছে চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে। ক্রেতা-দর্শনাথীদের উপস্থিতি কম হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় বইয়ের বিক্রি বাড়েনি এবার। বিক্রি কমে হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন প্রকাশকরা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বই প্রকাশের সংখ্যাও কমিয়ে এনেছেন অনেকে।

অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, 'মেলায় এবার পাঠক সংখ্যা অনেক কম। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঢাকার বাইরের কোনো পাঠকও মেলায়া আসতে পরেননি।'

শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবিন আহসান বলেন, 'আমাদের প্রকাশনী থেকে এবার ৫০টি বই প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা কমিয়ে ত্রিশে নামিয়ে আনতে হয়েছে।'

মেলার দ্বিখণ্ডিত আয়োজন ও দিক নির্দেশনার অভাবে নির্দিষ্ট স্টল খুঁজে পেতে ক্রেতা-পাঠকরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলেও জানালেন প্রকাশকরা। এছাড়াও মেলা খোলা রাখার সময়সীমা কম হওয়ায় প্রতিদিনই মেলার প্রবেশ দ্বার থেকে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

সাহস প্রকাশনীর প্রকাশক নাজমুল হুদা রতন বলেন, 'অনেকে না যেনে সরাসরি মেলায় গিয়ে পরে জানছেন যে মেলার মূল অংশ সোহরাওয়ার্দীতে। সেক্ষেত্রে তাদের সাথে যদি শিশু বা নারী থাকেন তাহলে তারা আবার কষ্ট করে সোহরাওয়ার্দীতে যেতে চান না।'

তবে অন্যান্য প্রকাশনী বই বিক্রিতে খুব একটা লাভজনক অবস্থায় না থাকলেও গত ১৭ দিনে অভিধান, লোকজ ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, গবেষণা ও চিন্তাশীল প্রবন্ধ বিক্রি করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির আয় হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। মেলা শেষে যা প্রায় দেড় কোটি টাকায় পৌছুবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, 'আমাদের প্রত্যাশা-এবার মেলায় বাংলা একাডেমি দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি করবে। তা যদি হয় তাহলে আমরা বলতে পারি- মেলায় সর্বমোট ৫৫-৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি হবে।'

এছাড়া এবারে কবিতার বইয়ের পাশপাশি নতুন লেখকদের গল্প ও উপন্যাসধর্মী বইয়ের বিক্রি বেশি বলেও জানিয়েছেন প্রকাশকরা।

Update: 2015-02-19 12:33:41, Published: 2015-02-19 12:32:00

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ



সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv