ইবোলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ লাইবেরিয়া

Update: 2015-01-15 16:58:33, Published: 2015-01-15 16:25:06
ইবোলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ লাইবেরিয়া
গেলো বছর বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ আতঙ্কের নাম ছিলো ইবোলা। পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনবহুল দেশ লাইবেরিয়া। এখানেই সাড়ে ৬ হাজার জন ইবোলায় সংক্রমিত হয়। প্রাণ হারায় ৩ হাজারেরও বেশি অধিবাসী।

জনসচেতনতার অভাব, উদ্যোগ নিতে দেরি হওয়ায় এবং সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশটিকে এতোবড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

ইবোলা রোগটির নাম রাখা হয়েছে একটি নদীর নাম থেকে। গত বছর সর্বপ্রথম গিনিতে দুই বছরের শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু তার আক্রান্ত হওয়ার কারণ আজও রহস্যই রয়ে গেছে। এরপর ভাইরাসের বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়ে লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওনেও। মার্চ মাসের মধ্যে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। পরে আগস্ট মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা জারি করে। তখন ইবোলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই স্থানীয়দের।

মায়ে আজানগো নামে স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‌'সাধারণ মানুষ মরে রাস্তায় পড়ে থাকলেও সরকারের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। কিন্তু যখন তাদের লোক মারা যায় তখনই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলোও পদক্ষেপ নিতে অনেক দেরি করেছে। এখন তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠায়। কিন্তু এপ্রিল জুন মাসে যখন ইবোলা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিলো, তখন কেউ সাড়া দেয়নি।'

পিটার গ্রাফ নামে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, 'আমরা ইবোলা ঠেকাতে জোরালো পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি সেপ্টেম্বর মাসে। ততদিনে রোগটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এখন সচেতনতাই পারে এর বিস্তার থামাতে। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলো থেকে যে অর্থ সাহায্য আসছে সেগুলোর সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না তা নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতা থাকা উচিত।'

ইবোলা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হলো মৃত রোগীদের সঠিক নিয়মে সৎকার করা। আর এই দায়িত্বটি পালন করে রেডক্রস আর স্বেচ্ছাসেবকরা।

ফাইয়াহ তাম্বা নামের এক রেডক্রস কর্মী বলেন, 'লাশ উদ্ধার থেকে শুরু করে সৎকার পর্যন্ত আমাদের কঠোর নিয়ম নীতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সবচেয়ে জরুরি হলো ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য বিশেষ পোশাক পরা। আর পুরো প্রক্রিয়া চলাকালে জীবানুনাশক স্প্রে করা। পোশাক খোলার পরও এই নিয়ম মানতে আমরা বাধ্য। নয়তো ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধ সম্ভব নয়।'

চিকিৎসকদের মতে, 'ইবোলা ভাইরাস মূলত আক্রান্ত রোগীর মল-মূত্র ও লালার মাধ্যমে ছড়ায়। এজন্য শুরু থেকেই পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতার উপরই জোর দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে মাঠ পর্যায়ে অনেকে জেনে, না জেনে এসব নিয়ম ভঙ্গ করে। যেমনটি উল্লেখ করেন স্থানীয় এক তরুণ। তিনি বলেন, 'আমার ভাই খুব অসুস্থ ছিলো। হাসপাতাল তাকে রাখতে চায়নি। পরে আমিই তাকে দেখাশুনা করেছি। খাইয়েছি। ভাইকে তো ফেলে রাখতে পারি না।'

পরে এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ২১ দিন বিশেষ পর্যবেক্ষনে রাখে রেডক্রস। ভাগ্যক্রমে তাদের কারো মধ্যেই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ইবোলায় আক্রান্তদের সেবা দিতে প্রান্তিক এলাকাগুলোতে স্থাপন করা হয় বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রের। প্রতিদিন এসব কেন্দ্রে অসংখ্য রোগী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সেরে উঠে বলে জানান চিকিৎসকরা। তাদেরই একজন সালোমে।

সালোমে কারওয়াহ নামে ইবোলা বেঁচে যাওয়া এক রোগী বলেন, 'ইবোলার সঙ্গে অন্য রোগের তুলনা করা সম্ভব না। এ রোগে পা থেকে মাথা পর্যন্ত বিভৎস ব্যাথা হয়। এমনকি হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত ব্যথার তীব্রতা পৌছে যায়। সেই সঙ্গে অনবরত বমি আর পাতলা পায়খানা তো আছেই। শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি থাকে না। আমি বেঁচে ফিরব ভাবতেও পারিনি।'

আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে বহু স্বাস্থ্যকর্মী এই রোগের সংস্পর্শে প্রাণ হারিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবাদানকারী এই মানুষগুলোর নিরাপত্তা বা আর্থিক চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ উঠে এসেছে বার বার। এ কারণে মেডিকেলকর্মীরাও কয়েকদফা ধর্মঘটের ডাক দেয়।

এদিকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে অনেক বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।

Update: 2015-01-15 16:58:33, Published: 2015-01-15 16:25:06

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ


সর্বাধিক পঠিত (সাম্প্রতিক)

জনপ্রিয় ট্যাগ

সংবাদ অনুসন্ধান

সরাসরি সম্প্রচার

সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv