আপনার বাবা নন, বুড়ো হচ্ছে এই ভূখণ্ড

Update: 2015-02-28 15:53:33, Published: 2015-02-28 15:50:53
1929255-1021857622765-8507-
অভিজিৎ রায়, আপনার সঙ্গে আমার কখনো পরিচয় হয়নি। দুজনার ফেইসবুক তালিকাতেও আমরা নেই। আপনার বাবা অজয় রায়কে জানি। তার শ্রেণীকক্ষের ছাত্র না হলেও,তাকে আমারও শিক্ষক মনে করি। আপনার লেখার সঙ্গেও ছিল বিচ্ছিন্ন পরিচয়। তবে এক প্রকার আত্মিক যোগাযোগ ছিল উভয়ের। তা হলো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মানুষের মুক্তচিন্তার অধিকার।

মানুষ তার ভাবনার কথা প্রকাশ করবে মুক্তমনে।সেই ভাবনা কেউ গ্রহণ করবে,কেউ করবেনা এটাই স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক। তবে যে ভাবনাটি আমি গ্রহণ করছিনা,তার প্রতিও আমার শ্রদ্ধা থাকবে। এটি গণ ও ধর্মতান্ত্রিক। অর্থাৎ রাজনৈতিক ও ধর্মের গণতন্ত্রও এটি বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের মানচিত্রের ছায়াতলে নানা মতের মানুষ ঠাঁই নিয়েছে। সেই পতাকাতলে অবস্থান করেও, বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, থাকবেও।কিন্তু সেই মতামত যখন দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নেয়, তখন অনুশীলনটি আমি ব্যক্তিগত ভাবে মেনে নিতে পারিনা। আপনিও সেই অনুশীলনকে স্বাগত জানাননি। ধর্ম বরাবরই আমার কাছে ব্যক্তিগত বিষয় বলে মনে হয়।  কে আস্তিক, কে নাস্তিক সেই বিরোধে উঁকি দেবার ইচ্ছে আমার কোনদিনই হয়নি। ধর্ম নিয়ে আপনার নিজস্ব বক্তব্য ছিল। দৃষ্টিভঙ্গিটিও প্রকাশ্য। তাকেও আপনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় বলেই মনে করি। আপনার অধিকার আছে ধর্ম নিয়ে নিজস্ব ভাবনাটি অন্যকে জানাবার। কারো যদি সেই ভাবনার বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে সে আপত্তির কথাটি জানাতে পারেন ব্যক্তিগত ভাবে বা আপনার মতো প্রকাশ্যে। ইসলাম ধর্মসহ যেকয়টি ধর্মনিয়ে অল্প পড়াশোনা আছে, তাতে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা জানানোরই নির্দেশনা আছে। অন্যের মত সইতে না পারলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া ভাল।কিন্তু তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া কেনো? এতো লড়াইকে যারা ভয় পান বা পাবে,তারা এপথে এগোবে। জানিনা আপনাকে আঘাত করলো কে? কাদের হাতে আপনাকে প্রাণ দিতে হলো। হুমায়ুন আজাদ স্যারকে যারা সইতে পারেননি, তারা কি আপনাকেও সইতে পারলোনা? যদি উত্তর হ্যাঁবোধক হয়, তাহলে নিজেকেই নিজের প্রশ্ন করতে হয় আমরা আর কতোটা বিকলাঙ্গ হবো। মানসিক ভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে পড়ছি আমরা। আপনাকে আমার সইতে না পারা, আপনার আমাকে সইতে না পারা, এটি সংক্রিমত আমাদের রাজনীতিতে। যে রাজনীতি সুযোগ করে দেয়া নানা সুযোগ সন্ধানীদের। তারা সুযোগ বুঝে জাতিকে মনে করিয়ে দিতে চায় ডিসেম্বর ১৪’র কথা। মুক্তমন, মুক্তকথা’র বিরুদ্ধেই যেনো তাদের যুদ্ধ। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চাচ্ছে সবাই। কোথাও ব্যবহৃত হচ্ছেন আপনি, কোথাও আমি, বা কোথাও অন্য কেউ। কিন্তু আপনিতো কাউকে প্রতিপক্ষ ভাবেননি।কি জানি আবারো প্রতিপক্ষদের দ্বারা ব্যবহৃত হলেন আপনি। আপনার মহাকাশ-বিজ্ঞান-নীহারিকা-ধর্ম নিয়ে লেখা’র প্রসঙ্গে গেলামনা। ইচ্ছে করছেনা ঐ প্রসঙ্গগুলোতে যাবার। বিশ্বাসের ভাইরাস নিয়েও চিন্তিত নই। চিন্তিত এই ভেবে যে, আপনার বাবা অজয় রায় এখনো তরুণ রয়ে গেলেন। কিন্তু এই ভূখণ্ড কেনো চিন্তা ও কাজে ক্রমশ বুড়ো হয়ে যাচ্ছে …।

Update: 2015-02-28 15:53:33, Published: 2015-02-28 15:50:53

আপনার মন্তব্য লিখুন

পাঠকের মন্তব্য ( )


More News
  


আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ



সরাসরি যোগাযোগ

৮৯, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ।
ফ্যাক্স: +৮৮০২ ৯৬৭০০৫৭, ইমেইল: info@somoynews.tv
উপরে en.Somoynews.tv