fair            

সানজাক ই উসমানঃ অটোমানদের দুনিয়ায়

52654466-2135752809835953-7

অটোমান সাম্রাজ্য এখন বিশ্বব্যাপী এক ক্রেজের নাম। তুর্কী ড্রামা সিরিয়াল মুহতেসিম ইয়ুজেঈল(বাংলায় সুলতান সুলেমান), দিরিলিস আরতুরুল, পায়িতাহত আব্দুল হামিদ আর মেহমেদ বির জিহান ফাতেহির সুবাদে সারা বিশ্বে অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে যে ক্রেজ চলছে তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও অটোমান সাম্রাজ্য ও তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

ঠিক এমনি সময় টিভির পর্দার পাশাপাশি বইমেলাতেও পাঠকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণের লেখা বই সানজাক ই উসমানঃ অটোমানদের দুনিয়ায়।
 
ইতিহাসের বই বিরক্তিকর হবে, এ যেন সূর্য পূর্বদিকে ওঠার মতই চিরন্তণ সত্য কথা। কিন্তু সানজাক ই উসমান ব্যতিক্রম। ৪৩২ পৃষ্ঠার এই বিশাল বই পড়তে পাঠক বিরক্তি অনুভব করছেন না, বরঞ্চ বইয়ের পাতায় পাতায় ঠাসা রোমাঞ্চ আর টুইস্ট, বিচিত্র সব ঐতিহাসিক চরিত্রের রীতিমত চোখের সামনে হাজির হওয়া আর ভায়োলেন্সের শিরদাড়া ঠান্ডা করে দেয়া বিবরণ পাঠককে যেন চুম্বকের মত টেনে নিয়ে যায় বইয়ের একেবারে শেষপ্রান্ত পর্যন্ত।

ইতিহাসের বই হলেও সানজাক ই উসমানের লেখনরীতি চিরাচরিত ইতিহাসের বইয়ের মত নয়। বইটি লেখা হয়েছে ফিকশনের ধাচে, পড়লে মনে হয় ইতিহাস যেন কোন সিনেমা হয়ে ভেসে উঠেছে চোখের পর্দায়।

সাতটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত বইটিতে মূলত আছে প্রায় ৬৪টি ধারাবাহিক ছোটগল্প যাদের প্রতিটি একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত। 
এই ছোটগল্পগুলো আবার লেখা হয়েছে থ্রিলারের মত করে, তাই এই বইটি হয়ে উঠেছে একই সাথে ইতিহাস, ঐতিহাসিক উপন্যাস আর থ্রিলারের মিশ্রণ, যেন এক মলাটে তিনটি ধাচের ভিন্ন তিনটি বই। 

থ্রিলার বা ফিকশনের বইয়ে সাধারণত রেফারেন্স থাকে না। প্রচলিত ধারার ইতিহাসকে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া এই বইটির পাতায় পাতায় রেফারেন্সের ছড়াছড়ি এবং অদ্ভুতভাবে, এই রেফারেন্স পাঠককে বিরক্ত না করে আরো উৎসাহিত করছে বইটি পড়তে। 

বইয়ের বিষয়বস্তু মূলত অটোমান সাম্রাজ্য হলেও বইয়ে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে দিগ্বিজয়ী চেঙ্গিজ খান আর মোঙ্গল সাম্রাজ্যের চালানো ধ্বংসযজ্ঞ। অটোমানদের উত্থানের পাশাপাশি এখানে আলোচিত হয়েছে মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে মামলুকদের সংগ্রাম আর স্পেনের পতন আর বিশ্বকে নতুনভাবে আবিষ্কারের নেশায় ঝাপিয়ে পড়া ইউরোপিয়ান রেনেসার কথাও।

বইটির দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর যুদ্ধের বর্ণনা। প্রায় ৪৪টি যুদ্ধের বর্ণনা ছড়িয়ে আছে পুরো বইতে, তাই যুদ্ধ ও ভায়োলেন্স পছন্দ করেন না অথবা দুর্বল হৃদয়ের পাঠকদের এই বইটি না পড়াই ভাল হবে।

পাশাপাশি অটোমানদের সামাজিক গঠন ও সাংস্কৃতিক জীবন নিয়েও বইটিতে আলোচনার কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়, যা লেখক পুষিয়ে দিয়েছেন রোমাঞ্চ দিয়ে।
 
সানজাক ই উসমানের আরেকটি বিশেষত্ব হল ইতিহাসের হিরো এবং এন্টি হিরোদের চমকপ্রদ উপস্থাপনা। চেঙ্গিজ খান বনাম সুলতান জালাল উদ দীন, বারকী খান বনাম হালাকু খান, সুলতান বায়েজীদ বনাম তাইমুর লঙ, জন হুনয়াদীর সাথে মুহাম্মাদ আল ফাতিহ,স্টিফেন দ্যা গ্রেট বনাম মুহাম্মাদ আল ফাতিহ এবং ইতিহাসকুখ্যাত ড্রাকুলা বনাম মুহাম্মাদ আল ফাতিহর দ্বৈরথ একেবারে পাঠককে রুদ্ধশ্বাসে নিয়ে যাবে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত।
তবে লেখক নিজের সেরাটা ঢেলে দিয়েছেন আল ফাতিহ নামের উপ-অধ্যায়ে, যেখানে রয়েছে মুহাম্মাদ আল ফাতিহর কন্সটান্টিনোপল বিজয়ের এক জীবন্ত, শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনা।

সমালোচকেরা বলছেন, প্রচলিত ইতিহাস আর ঐতিহাসিক থ্রিলারের ধারনার বাইরে নিয়ে এসেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন স্টাইল যেখানে ইতিহাসকে অক্ষত রেখে পাঠককে দেয়া হয়েছে থ্রিলারের টানটান উত্তেজনার স্বাদ। বাংলা সাহিত্যে এটি সত্যিই অভিনব এক সংযোজন।

বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৪৭০ নম্বর স্টল মাতৃভাষাতে।

প্রকাশিত বই
বই মেলার সংবাদ
ছবি
বই মেলায় আড্ডা
book-fari-adda
b5
b4
b3
b2
b1
ভিডিও
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
SOMOY
fair            
somoy