চীনে নতুন আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ
বিশ্বমন্দার প্রভাব এড়াতে চীনকে নতুন করে আর্থিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারকে শক্তিশালী করতে চীনকে ভোক্তা খরচ বাড়াতে হবে বলেও মনে করছেন তারা। চীনের সোশ্যাল সাইন্স একাডেমি আশা করছে, ২০১৩'র প্রথম প্রান্তিকে দেশটির আর্থিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে আট শতাংশে। অথচ ২০১২তেও এ অবস্থার কথা ভাবা যেতো না।
বিশ্বমন্দার কারণে ইউরোপে চীনা পণ্যর চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নামে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়িয়ে সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছে চীন।
অর্থনীতিবিদ জু সিতাও বলেন, 'আমি আমার গবেষণায় দেখেছি, চীনাদের অর্থ আয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাই তারা খরচের চেয়ে সঞ্চয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে। মধ্য আয়ের চীনারাই দেশের মূল চালিকা শক্তি। তাই বাড়ি ও গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যদি কম কর আরোপ করা হয়, তাহলে তারা স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারবে।'
গত ফেব্রুয়ারিতে আবাসন ও সফটওয়্যার উন্নয়ন কোম্পানিগুলোর মতো অনুৎপাদনশীল খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। সেইসঙ্গে খুচরা বিক্রি বেড়েছে ১৫ শতাংশ হারে। যা গতবছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে ভোক্তা খরচ আরও বাড়াতে করের হার কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ঝু গুয়াওঝংয়ের বলেন, 'মূল কথা হচ্ছে পুরনো নীতি এখন আর কাজ করছে না। চীন মধ্য আয়ের দেশ; এর ব্যয় কাঠামো অন্যদের চেয়ে আলাদা। তাছাড়া চীনা অর্থনীতি নির্ভর করছে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির উপর।'
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো দেশ মধ্য আয় থেকে ধনী হতে চাইলে তার মূল পরিকল্পনা বদলাতেই হবে। সেই সঙ্গে গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন করতে হবে নতুন নতুন খাত। এছাড়া দেশটির রফতানি কাঠামোর সাথে বিদেশি বিনিয়োগের সমন্বয় করতে পারলেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
সময়নিউজ.টিভি: ২০১৩-০৩-০৫