রাজধানীতে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় বিএনপির হরতাল পালিত
সময়নিউজ.টিভি: ২০১৩-০৩-০৫
ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণসহ দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া রাজধানীতে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হয় বিএনপি'র হরতাল।
মঙ্গলবার সকালে যানবাহন ও মানুষ চলাচল কিছুটা কম করলেও বেলা বাড়লে এর সংখ্যাও বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, রাস্তা অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হরতালের সমর্থনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। ভোর সাড়ে ৫ টায় আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় পুরো গাড়িটিই আগুনে পুড়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
রাজধানীর মহাখালিতে কোনো সহিংস ঘটনা ছাড়াই চলছে বিএনপি'র ডাকা হরতাল। অন্যান্য দিনের তুলনায় বাস ও গাড়ি সংখ্যা কম থাকলেও সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি'র ডাকা হরতালে রাজধানীর পল্টন ও প্রেসক্লাব এলাকায় কোনো মিছিল কিংবা পিকেটিং এর ঘটনা ঘটেনি। সেখানকার পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে।
সকালে তেজগাঁও এলাকায় হরতাল সমর্থকরা একটি মিছিল বের করে। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। পুলিশ আসার আগেই তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
বাসাবোর তিলপাপাড়ায় মিছিল থেকে সাত আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ধাওয়া দিলে পালিয়ে যায় মিছিলকারীরা।
মুগদাপাড়া এলাকায় হরতালকারীদের মিছিল থেকে কমপক্ষে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এছাড়া মহাখালি আমতলি এলাকায় হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরণের পর উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় পুলিশ দুজনকে আটক করে।
এদিকে, সকাল সোয়া ৮ টার দিকে গুলশান এলাকায় হরতালের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিল থেকে পিকেটাররা দোকানপাট ও গাড়ী ভাংচুর করে। এ সময় ওই এলাকায় তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে পিকেটাররা। পুলিশ ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় মোটর সাইকেলে করে কয়েকজন পিকেটার এসে এলোপাথারি ককটেল বিস্ফোরণ শুরু করে। এ সময় ওই এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হরতালের সকালে যান বাহন চলাচল কিছুটা কম ছিলো। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচল ও মানুষজনের আনাগোনা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। পাশাপাশি জোরদার করা হয় গোয়েন্দা নজরদারীও।
হরতালে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় ৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। এছাড়া হরতালে মালিবাগ, মগবাজারের যানবাহন চলাচল ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকে।